যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সরকারি সব ধরনের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন জানিয়েছে, একই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এআই খাতে এটি একটি নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই নির্দেশনায় প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে। রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতা না করলে প্রেসিডেন্টের পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একটি বড় ধাক্কা। কারণ, অ্যানথ্রপিক এতদিন জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উন্নত এআই সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছে গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা।
তবে অ্যানথ্রপিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের এই ঝুঁকি ঘোষণাকে তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এক বৈঠকে অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের সীমা আরোপ এবং গণনজরদারির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, পেন্টাগন স্পষ্ট করে বলেছে যে, দেশের প্রতিরক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ করবে আইন, কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।
এর আগে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে পেন্টাগনের সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাদ দিতে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এদিকে, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের চুক্তিতে অস্ত্র ব্যবস্থায় মানবিক দায়বদ্ধতা ও গণনজরদারি না করার নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ওপেনএআই ও পেন্টাগনের চুক্তির শর্ত অ্যানথ্রপিকের প্রস্তাবিত সীমারেখা থেকে কতটা ভিন্ন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রিপোর্টারের নাম 






















