আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এশিয়া মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটি মনে করে, এই পরিস্থিতি দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এশিয়া মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যে ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। বিশেষ করে, নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা ও হত্যার ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সংস্থাটির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বাবলু বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি ঢাকা ও নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দেশ একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা এবং নারীর দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের মতো লোমহর্ষক ঘটনাগুলো আমাদের গভীর ভাবে ভাবাচ্ছে।”
নজরুল ইসলাম বাবলু স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও এ ধরনের বৈষম্য ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন হয়েছে, যার পরিণাম ছিল ভয়াবহ। তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাগুলো যদি পূরণ না হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে।”
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, সম্প্রতি একজন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের ভিন্নমতের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কারণে নেতাকর্মীদের স্ত্রীদের গণ-তালাক দেওয়ার মতো বক্তব্য মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের বক্তব্য কেবল নারীর অধিকারকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং সমাজে বিভেদ ও বিদ্বেষ ছড়াতেও সহায়ক।
এশিয়া মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সরকারের কাছে জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নারী ও শিশুসহ সকল নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনকালীন সময়ে যাতে কোনো প্রকার সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য সংস্থাটি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















