দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা এবং এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নরসিংদীর মাধবদী থানার মহিষাসুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের এক ন্যাক্কারজনক উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সংগঠনের যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, মহিষাসুর ইউনিয়নে সংঘটিত এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পাশবিক অপরাধই নয়, বরং এটি বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি এক চরম উপহাস। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকে ন্যায়বিচার দেওয়ার নামে উল্টো এলাকাছাড়া করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এই ঘটনায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে কিশোরীটিকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এই পুরো ঘটনাটি পাশবিকতা ও বর্বরতার চরম সীমা অতিক্রম করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, এই ঘটনার মূলে রয়েছে রাজনৈতিক প্রশ্রয় এবং অপরাধীদের দলীয় বলয়ে আশ্রয় দেওয়া। মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির একজন সহ-সভাপতির নিজস্ব বলয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই প্রথম দফায় এমন ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করার দুঃসাহস দেখানো হয়। পরবর্তীতে, বিচারের নামে নির্যাতিতের ওপরই খড়গহস্ত হওয়া অপরাধী চক্র এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের বেপরোয়া মনোভাবের প্রমাণ রেখেছে। তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের এক বীভৎস ও মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সাথে, যে রাজনৈতিক চক্র এই অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এই ঘটনার সুযোগ করে দিয়েছে, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের মুখপাত্র কেন্দ্রীয় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশজুড়ে তাদের সাংগঠনিক কমিটিগুলো পর্যালোচনা করা উচিত। কমিটিগুলো থেকে অপরাধী এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের অবিলম্বে বাদ দেওয়া হোক। অন্যথায়, এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনার দায়ভার কেন্দ্রীয় বিএনপিকেও বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
—
রিপোর্টারের নাম 

























