বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকলেও, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পুনরায় স্বাভাবিক হচ্ছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয়দের জন্য ভিসা সেবা চালু করেছে, এখন প্রশ্ন—ভারত কবে পর্যটন ভিসা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করবে?
ভিসা জটিলতার প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারত তাদের সব ধরনের ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী ১৮ মাস ধরে পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা—এই পাঁচটি আইভ্যাক (IVAC) থেকে সীমিত আকারে মেডিকেল, বিজনেস এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হচ্ছিল। অন্যদিকে, ভারতের বিভিন্ন মিশনে হামলার প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশও কন্স্যুলার সেবা বন্ধ করেছিল, যা গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের সক্রিয়তা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারতের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসও পর্যায়ক্রমে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা’ জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন।
কবে চালু হবে পর্যটন ভিসা? কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ভিসা চালুর বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার। তবে এর পেছনে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কিছু সমীকরণ রয়েছে:
- সীমিত পরিসর: রোজার ঈদের আগে আগরতলা ও ডাউকি বর্ডার দিয়ে সীমিত আকারে পর্যটন ভিসা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
- নির্বাচনী ফ্যাক্টর: পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের আগে ভারত হয়তো পুরোদমে ভিসা চালু করবে না। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।
পরিবহন ও যোগাযোগে গতি ভিসা চালুর আবহের মধ্যেই ১৮ মাস পর গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। এছাড়া মৈত্রী, মিতালি ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের বিষয়েও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ভারত এক্ষেত্রে পদ্মা সেতু রেল লিংক ব্যবহারের আগ্রহ দেখিয়েছে, যার ফলে ঢাকা-কলকাতা যাত্রার সময় ১১ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৫ ঘণ্টায় নেমে আসবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, দুই দেশই পারস্পরিক স্বার্থে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। দিল্লির সবুজ সংকেত পেলেই পর্যটন ভিসার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
রিপোর্টারের নাম 

























