ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সিটি নির্বাচনে ধোঁয়াশা: প্রশাসক পদে আ’লীগ নেতার বদলে বিএনপি নেতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনা—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএনপির এই ছয় নেতা সচিবালয়ে গিয়ে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

প্রশাসক নিয়োগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আত্মগোপনে চলে যান। নাগরিক সেবা সচল রাখতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করেই পেশাদার আমলাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে বসিয়েছে।

যাঁরা প্রশাসক হয়েছেন:

  • ঢাকা দক্ষিণ: আবদুস সালাম (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা)।
  • ঢাকা উত্তর: মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
  • খুলনা: নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
  • সিলেট: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
  • নারায়ণগঞ্জ: মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
  • গাজীপুর: মো. শওকত হোসেন সরকার।

এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা বনাম অনিশ্চয়তা আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হয়েছে এবং চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি এসব সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনেকটাই ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনগত কিছু পরিবর্তন, প্রতীকের বিষয় এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের কারণে এখনই সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী ও বিশ্লেষকদের অভিমত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বেশি কার্যকর সেবা দিতে পারেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে এবং ধাপে ধাপে সব সিটিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ আবু আলম শহীদ খান ও বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সিটি করপোরেশন কেবল মেয়র বা প্রশাসক দিয়ে চলে না। কাউন্সিলর পদগুলো শূন্য থাকায় জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ সাধারণ নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রশাসক দিয়ে দীর্ঘ সময় চালানো সংবিধানের পরিপন্থী এবং দ্রুত নির্বাচনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করেই তাঁরা নির্বাচনে যাবেন। তবে সেই ‘আস্থা অর্জন’ ও ‘নির্বাচনের তারিখ’ ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়টুকু কতদিনের, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

সিটি নির্বাচনে ধোঁয়াশা: প্রশাসক পদে আ’লীগ নেতার বদলে বিএনপি নেতা

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনা—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিএনপির এই ছয় নেতা সচিবালয়ে গিয়ে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

প্রশাসক নিয়োগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আত্মগোপনে চলে যান। নাগরিক সেবা সচল রাখতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করেই পেশাদার আমলাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে বসিয়েছে।

যাঁরা প্রশাসক হয়েছেন:

  • ঢাকা দক্ষিণ: আবদুস সালাম (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা)।
  • ঢাকা উত্তর: মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
  • খুলনা: নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
  • সিলেট: আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
  • নারায়ণগঞ্জ: মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
  • গাজীপুর: মো. শওকত হোসেন সরকার।

এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে ‘পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা বনাম অনিশ্চয়তা আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হয়েছে এবং চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি মাসের ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি এসব সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনেকটাই ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইনগত কিছু পরিবর্তন, প্রতীকের বিষয় এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের কারণে এখনই সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী ও বিশ্লেষকদের অভিমত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বেশি কার্যকর সেবা দিতে পারেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে এবং ধাপে ধাপে সব সিটিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।

তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ আবু আলম শহীদ খান ও বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সিটি করপোরেশন কেবল মেয়র বা প্রশাসক দিয়ে চলে না। কাউন্সিলর পদগুলো শূন্য থাকায় জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ সাধারণ নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের মতে, প্রশাসক দিয়ে দীর্ঘ সময় চালানো সংবিধানের পরিপন্থী এবং দ্রুত নির্বাচনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবদুস সালাম জানিয়েছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করেই তাঁরা নির্বাচনে যাবেন। তবে সেই ‘আস্থা অর্জন’ ও ‘নির্বাচনের তারিখ’ ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়টুকু কতদিনের, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।