মব সহিংসতার আশঙ্কায় সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তারই জেরে এখন জনরোষের শিকার হওয়ার ভয় পাচ্ছেন বিদায়ী উপদেষ্টারা। অনেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি আবাসন আঁকড়ে থাকতে চাইছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭-১৮ মাসে বাংলাদেশে ৪১৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ২৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মব জাস্টিসের সংস্কৃতি এখন খোদ সাবেক নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। যদিও ক্রসফায়ার কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে হেফাজতে মৃত্যু এবং রাজনৈতিক বন্দিদের কারাগারে মৃত্যুর মিছিল নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি বাসভবনগুলো খালি করার তাগিদ দিয়েছে। আবাসন পরিদফতরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পেনশন বা আবাসন নীতিমালা নেই। ফলে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে বাসা ছাড়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাঁদের সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে দেবেন বলে জানা গেছে। শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন এবং এখন গুলশানের নিজ বাসভবনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আপাতত যমুনাতেই তাঁর কার্যালয় ও আবাসন ব্যবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা করছেন।
বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সংখ্যা প্রায় ৫৯ জন হলেও আবাসন পরিদপ্তরের কাছে মাত্র ৩৭টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দযোগ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাসার জন্য আবেদন করেছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের আবাসন নিশ্চিত করতে মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের বাড়িগুলো দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। আবাসন পরিদপ্তরের আশা, সব মন্ত্রী সরকারি বাসা ব্যবহার করবেন না বিধায় সংকট তীব্র হবে না।
রিপোর্টারের নাম 

























