চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার, গরুর বাজার, মাছ বাজার এবং পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারার সিডিউল জমা দেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজীর অনুসারীরা পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফরাজী, বিএনপি নেতা আমিনুল হক সরকারসহ অন্যদের সিডিউল জমা দিতে বাধা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, এই সময় লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০) এবং সফিউল্লাহ (৩৫) সহ পাঁচজন আহত হন।
পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বেপারী অভিযোগ করেন, সিডিউল জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর কয়েকজন সিডিউল জমা দিতে আসলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এই সময় তাদের সমর্থক সফিউল্লাহকে মারধর করা হয়।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার এবং পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের কারসাজিতে একপক্ষের সিডিউল জমা নেওয়া হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, টেন্ডারের বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় দেওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র পৌরসভায় বাক্স রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, সিডিউল জমা দিতে বাধা দেওয়ার সময় যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজীর অনুসারীরা বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানের মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজনকে আহত করেন। তারা ছেঙ্গারচর পৌরসভার এই হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।
মতলব উত্তর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, এক পক্ষ অন্য পক্ষকে সিডিউল জমা দিতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা বাহিনী উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, যারা নির্দিষ্ট সময়ের ৫ মিনিট আগে সিডিউল জমা দিতে এসেছিল, তারা যদি জমা দিতে না পারে, তবে ফৌজদারী আইনে ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি আরও জানান, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি সিডিউলই জমা পড়েছে, যা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
রিপোর্টারের নাম 





















