দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনের এক পরিচিত মুখ, সফল উদ্যোক্তা এবং জামায়াতে ইসলামীর সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন শাখার প্রচার সম্পাদক আবদুল মালেক এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকতা পেশার সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
আবদুল মালেকের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তার মরদেহ দেখতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
নিহত আবদুল মালেকের বড় ভাই আব্দুর রহিম জিহাদী এক আবেগঘন বর্ণনায় বলেন, “আমার ভাই রোজা রেখেছিল। আজ একসাথে সেহরি খেয়েছি। সে আমাকে বড় মাছটি তুলে দিয়ে বলেছিল—আমার ভাই ওমরাহ যাবে তাই!” তিনি আরও জানান, একটি ডাম্পার ট্রাকের ধাক্কায় আবদুল মালেককে বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আবদুল মালেক মারা যান। এই দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আবদুল মালেকের মৃত্যুর পর তার ফেসবুক বায়োতে লেখা একটি কথা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পরে আমার লাশটি জন্মভূমি সেন্টমার্টিনে বাবা-মা’য়ের কবরের পাশে শায়িত করিও!” তার এই ইচ্ছা পূরণের জন্য মরদেহ সন্ধ্যার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে, আবদুল মালেকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারী। তিনি বলেন, “তাঁর এই প্রস্থান দ্বীপবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন বিনয়ী, পরোপকারী এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক প্রাণ।” মাওলানা আনোয়ারী মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, “মহান রবের দরবারে দোয়া করি—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা-আলা তাঁকে ক্ষমা করুন, কবরকে নূরে ভরপুর করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ও সবর দান করুন। আমীন।”
রিপোর্টারের নাম 





















