ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সেন্টমার্টিনের উপকূলে বিরল দৃশ্য: এক জালে ধরা পড়ল হাজারো লাল কোরাল, বিক্রি হলো ৩৫ লাখে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরে এক অভূতপূর্ব মৎস্য শিকারে মেতে উঠেছেন জেলেরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছানো এক মাছবোঝাই ট্রলার স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ট্রলারটিতে ধরা পড়েছে প্রায় ছয় হাজার কেজি ওজনের বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক ‘লাল কোরাল’ মাছ। এই বিরল ও বিশাল মৎস্য শিকার জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বয়ে এনেছে। স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় এই মাছগুলো কিনে নিয়েছেন।

টেকনাফ সদরের কেরনতলী এলাকার মিজান নামের এক ট্রলার মালিকের অধীনে ২১ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে একটি ট্রলার ও একটি নৌকা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যাত্রা করে। পরদিন, ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা এক বিশাল মাছের ঝাঁকের সন্ধান পান। চারদিক থেকে জাল ফেলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা প্রায় এক হাজারেরও বেশি লাল কোরাল মাছ আটকাতে সক্ষম হন। জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের গড় ওজন ছিল ৫ থেকে ৭ কেজি, যা সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ মণ বা ছয় হাজার কেজি ওজনে দাঁড়িয়েছে।

ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে এই বিপুল পরিমাণ মাছ কিনে নেন। সব মিলিয়ে মাছগুলোর মোট বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ এই ঘটনাকে তার দীর্ঘদিনের মৎস্য ব্যবসার ইতিহাসে এক বিরল নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে দ্রুত ঢাকা শহরের বিভিন্ন কাঁচা মাছের আড়তে, যেমন যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার এবং আব্দুল্লাহপুর, পাঠানো হচ্ছে।

মৌসুমের শেষ দিকে এমন বড় মাছের ঝাঁক ধরা পড়া বিরল হলেও, এটি স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা এই মৎস্য শিকারকে জেলেদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যের একটি ইঙ্গিত বহন করে। তবে, তিনি সামুদ্রিক সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে মাছ ধরার বিষয়ে জেলেদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল পরিহার, ছোট আকারের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে, জেলেদের নিরাপদে মাছ আহরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য, লাল কোরাল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Lutjanus argentimaculatus। এটি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিচরণকারী একটি পরিচিত প্রজাতি, যা সাধারণত “লাল কোরাল” নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

সেন্টমার্টিনের উপকূলে বিরল দৃশ্য: এক জালে ধরা পড়ল হাজারো লাল কোরাল, বিক্রি হলো ৩৫ লাখে

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরে এক অভূতপূর্ব মৎস্য শিকারে মেতে উঠেছেন জেলেরা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছানো এক মাছবোঝাই ট্রলার স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ট্রলারটিতে ধরা পড়েছে প্রায় ছয় হাজার কেজি ওজনের বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক ‘লাল কোরাল’ মাছ। এই বিরল ও বিশাল মৎস্য শিকার জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বয়ে এনেছে। স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় এই মাছগুলো কিনে নিয়েছেন।

টেকনাফ সদরের কেরনতলী এলাকার মিজান নামের এক ট্রলার মালিকের অধীনে ২১ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে একটি ট্রলার ও একটি নৌকা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যাত্রা করে। পরদিন, ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা এক বিশাল মাছের ঝাঁকের সন্ধান পান। চারদিক থেকে জাল ফেলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তারা প্রায় এক হাজারেরও বেশি লাল কোরাল মাছ আটকাতে সক্ষম হন। জেলেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের গড় ওজন ছিল ৫ থেকে ৭ কেজি, যা সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ মণ বা ছয় হাজার কেজি ওজনে দাঁড়িয়েছে।

ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে এই বিপুল পরিমাণ মাছ কিনে নেন। সব মিলিয়ে মাছগুলোর মোট বিক্রয় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ এই ঘটনাকে তার দীর্ঘদিনের মৎস্য ব্যবসার ইতিহাসে এক বিরল নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে দ্রুত ঢাকা শহরের বিভিন্ন কাঁচা মাছের আড়তে, যেমন যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার এবং আব্দুল্লাহপুর, পাঠানো হচ্ছে।

মৌসুমের শেষ দিকে এমন বড় মাছের ঝাঁক ধরা পড়া বিরল হলেও, এটি স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা এই মৎস্য শিকারকে জেলেদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যের একটি ইঙ্গিত বহন করে। তবে, তিনি সামুদ্রিক সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে মাছ ধরার বিষয়ে জেলেদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল পরিহার, ছোট আকারের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো মাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে, জেলেদের নিরাপদে মাছ আহরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

উল্লেখ্য, লাল কোরাল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Lutjanus argentimaculatus। এটি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিচরণকারী একটি পরিচিত প্রজাতি, যা সাধারণত “লাল কোরাল” নামেই সর্বাধিক পরিচিত।