কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় ৯ পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ধরা পড়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জানা গেছে, রাজস্ব প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ৫৫টি, নিরাপত্তা প্রহরী তিনটি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী একটিসহ মোট ৫৯টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।
মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পরীক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু বিষয় লক্ষ্য করেন। পরীক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক লেখা এবং লিখিত পরীক্ষার খাতায় থাকা হাতের লেখার মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পরীক্ষার্থীরা স্বীকার করেন যে তারা নিজেদের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
এই জালিয়াতির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান এবং রিয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত ৯ পরীক্ষার্থীকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার হোসেনপুরের নিজাম উদ্দিন ও সাব্বির, পাকুন্দিয়ার পিয়াস ও মেহেদী, মিঠামইনের শফিকুল, ইটনার নজরুল, তাড়াইলের জসিম ও ফয়সাল এবং কিশোরগঞ্জ সদরের রাহিমা আক্তার।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং রাজস্ব প্রশাসন নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় কঠোরভাবে দমন করা হবে। জেলা প্রশাসন স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 





















