পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশব্যাপী ৫০ হাজার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত রোজাদারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে আল-মারকাজুল ইসলামী (এ.এম.আই.)। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন নিম্নআয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ, তখন সাহরি ও ইফতারে যেন কোনো পরিবারকে অনাহারে থাকতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই সংগঠনটি এই বৃহৎ পরিসরের মানবিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান শায়খ হামজা শহিদুল ইসলাম জানান, দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত চাপে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রমজানের পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন সবার জীবনে স্বস্তি নিয়ে আসে, সেই প্রচেষ্টায় তারা কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩৮ বছর ধরে আল-মারকাজুল ইসলামী মানবসেবায় নিবেদিত এবং রমজানেও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
প্রতিটি খাদ্যপ্যাকেজে রয়েছে ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি চিনি, ১ কেজি ছোলা এবং ২ কেজি মুড়ি। একটি পরিবারের এক মাসের খাদ্য চাহিদা পূরণের কথা মাথায় রেখেই এই প্যাকেজগুলো তৈরি করা হয়েছে।
সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করছেন এবং তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে করে নিশ্চিত হচ্ছে যে, সহায়তা প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছেই পৌঁছাচ্ছে। সংগঠনটির ফান্ড রাইজিং অফিসার বলেন, “এই সীমিত আকারের খাদ্যপ্যাকেটগুলো হয়তো একটি পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসে। এর সাথে যুক্ত থাকে তাদের আন্তরিক দোয়া ও কৃতজ্ঞতা, যা আমাদের কাজের মূল অনুপ্রেরণা।”
ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর ও লালমনিরহাট, কক্সবাজারের বান্দরবানের আলীকদম ও পোয়ামুহূরী, খুলনার উপকূলীয় এলাকা দাকোপ, বরিশালের বাবুগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত বেদে সম্প্রদায় এবং শরীয়তপুরের একটি চরের বেদে পল্লীসহ দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে রমজান ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আল-মারকাজুল ইসলামী সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে, এই মহৎ মানবিক উদ্যোগে অংশ নিয়ে রমজানের বার্তা আরও বিস্তৃত করতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একে অর্থবহ করে তুলতে।
রিপোর্টারের নাম 





















