আসন্ন এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারতে এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগের শক্তিশালী দল ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি ওয়ান্ডারার্স’-এর মুখোমুখি হবে সাবিনা-তহুরারা। সিডনিতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না, অর্থাৎ ‘ক্লোজ ডোর’ ম্যাচ হিসেবে এটি অনুষ্ঠিত হবে।
এই প্রীতি ম্যাচটিকে এশিয়ান কাপের আগে দলের শক্তিমত্তা যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার। স্কোয়াডে থাকা অভিজ্ঞ ও তরুণ মিলিয়ে ২৬ জন ফুটবলারের সবাইকেই এই ম্যাচে মাঠে নামিয়ে দেখে নিতে চান তিনি। তবে কেবল কৌশলগত উন্নতি নয়, বাটলারের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা।
বাফুফের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় কোচ বাটলার জানান, সিডনির চমৎকার পরিবেশে দলের প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বড় মঞ্চে সফল হতে হলে ফুটবলারদের নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখা জরুরি। বাটলার বলেন, “ভালো খেলা মূলত মানসিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। আমাদের মেয়েরা পরিশ্রমের দিক থেকে কোনো কমতি রাখছে না, তাদের প্রচেষ্টায় আমি মুগ্ধ। তবে তাদের মাথায় এটি ঢোকাতে হবে যে, প্রতিপক্ষের চেয়ে আমরা পিছিয়ে থাকলেও সেই ঘাটতি মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব।”
আজকের ম্যাচে ফুটবলারদের দায়িত্ব এবং খেলার চাপ (লোড) ভাগ করে দেবেন কোচ। অনুশীলনে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপর জোর দেওয়া বাটলার এই ম্যাচে ৪-৪-২ ফরমেশনকে প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩-৪-৩ বা ৩-৫-২ ফরমেশনেও দলকে খেলাতে পারেন তিনি। মূলত খেলোয়াড়দের পজিশন ও বিকল্প পজিশনে তাদের কার্যকারিতা পরখ করাই এই ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি নিজেদের মেলে ধরার বড় একটি প্ল্যাটফর্ম।
সিডনির ভ্যালেন্টাইন্স পার্কের সুযোগ-সুবিধা ও অ্যাথলেটদের জন্য মানসম্মত খাবারের প্রশংসা করে বাটলার জানান, ফুটবলাররা এখানকার পরিবেশ বেশ উপভোগ করছেন। তবে দেশ ছাড়ার আগে প্রস্তুতির কিছু ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে কোচের কণ্ঠে। মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা থাকলেও ঘরোয়া লিগের ব্যস্ততায় তা সম্ভব হয়নি। বাটলারের মতে, এশিয়ান কাপের মতো আসরের জন্য সেটি আদর্শ প্রস্তুতি ছিল না। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এসে দল মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১ মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়ান কাপের এবারের আসর। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ৩ মার্চ শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মিশন। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। নারী ফুটবলের পরাশক্তিদের বিপক্ষে এই আসরটি বাংলাদেশের জন্য যেমন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ, তেমনি নিজেদের প্রমাণের এক বিশাল সুযোগ।
রিপোর্টারের নাম 























