ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

এক ছাতার নিচে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়: ঘুচছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দূরত্ব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে একীভূত সমন্বয়ের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারণী দূরত্ব ঘোচাতে এবার দুই মন্ত্রণালয়কে একই নেতৃত্বের ছায়াতলে আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে। প্রশাসনিক কাঠামো আলাদা থাকলেও এখন থেকে শিক্ষার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে একই টেবিলে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমন্বয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

আগে দুই মন্ত্রণালয় আলাদা নেতৃত্বের অধীনে থাকায় কারিকুলাম, পাঠদান পদ্ধতি এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেখা দিত। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা যখন মাধ্যমিকে পদার্পণ করত, তখন তারা এক ধরনের হোঁচট খেত।

  • এনসিটিবি-র সংকট: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দুই মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনার কারণে কারিকুলাম চূড়ান্ত করতে হিমশিম খেত।
  • প্রকল্পের ওভারল্যাপিং: আলাদা পরিকল্পনা থাকায় অনেক সময় একই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প দুটি মন্ত্রণালয়েই নেওয়া হতো, যা সম্পদের অপচয় ঘটাত।

‘৭২ ঘণ্টার নিয়ম’ ও প্রশাসনিক গতিশীলতা

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফাইল জট কমাতে তিনি কঠোর অবস্থানে থাকবেন। প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে তিনি ‘৭২ ঘণ্টার নিয়ম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

দ্রুত নিষ্পত্তি: কোনো ফাইল তিন দিনের বেশি দপ্তরে আটকে রাখা যাবে না।
স্ক্রিনিং ব্যবস্থা: দুই মন্ত্রণালয়ের সব ফাইল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পর্যবেক্ষণ শেষে মন্ত্রীর টেবিলে যাবে।
এক কমান্ড: আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

    বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের অভিমত

    ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। তবে শুধু একই নেতৃত্বের অধীনে আনা যথেষ্ট নয়; প্রশাসনিক কাঠামো ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।”

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী জানান, এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা ছিল। বিশ্বের অনেক দেশেই একীভূত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পরিচালিত হয়। সমন্বয়হীনতা কাটাতে পারলে শিক্ষাখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।


    নতুন কাঠামোর সম্ভাব্য সুফল:

    • কারিকুলামের ধারাবাহিকতা: প্রাথমিক স্তরের ভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই উচ্চশিক্ষার রূপরেখা তৈরি হবে।
    • শিক্ষক নিয়োগ: ফাইল চালাচালির সময়ক্ষেপণ কমবে, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
    • অবকাঠামোগত বৈষম্য: গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূর করা সহজ হবে।
    ট্যাগস :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    আপলোডকারীর তথ্য

    Mahbub

    জনপ্রিয় সংবাদ

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

    এক ছাতার নিচে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়: ঘুচছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দূরত্ব

    আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

    শিক্ষা প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে একীভূত সমন্বয়ের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারণী দূরত্ব ঘোচাতে এবার দুই মন্ত্রণালয়কে একই নেতৃত্বের ছায়াতলে আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে। প্রশাসনিক কাঠামো আলাদা থাকলেও এখন থেকে শিক্ষার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে একই টেবিলে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সমন্বয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

    আগে দুই মন্ত্রণালয় আলাদা নেতৃত্বের অধীনে থাকায় কারিকুলাম, পাঠদান পদ্ধতি এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেখা দিত। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা যখন মাধ্যমিকে পদার্পণ করত, তখন তারা এক ধরনের হোঁচট খেত।

    • এনসিটিবি-র সংকট: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দুই মন্ত্রণালয়ের ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনার কারণে কারিকুলাম চূড়ান্ত করতে হিমশিম খেত।
    • প্রকল্পের ওভারল্যাপিং: আলাদা পরিকল্পনা থাকায় অনেক সময় একই ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প দুটি মন্ত্রণালয়েই নেওয়া হতো, যা সম্পদের অপচয় ঘটাত।

    ‘৭২ ঘণ্টার নিয়ম’ ও প্রশাসনিক গতিশীলতা

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফাইল জট কমাতে তিনি কঠোর অবস্থানে থাকবেন। প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে তিনি ‘৭২ ঘণ্টার নিয়ম’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

    দ্রুত নিষ্পত্তি: কোনো ফাইল তিন দিনের বেশি দপ্তরে আটকে রাখা যাবে না।
    স্ক্রিনিং ব্যবস্থা: দুই মন্ত্রণালয়ের সব ফাইল প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পর্যবেক্ষণ শেষে মন্ত্রীর টেবিলে যাবে।
    এক কমান্ড: আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

      বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের অভিমত

      ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। তবে শুধু একই নেতৃত্বের অধীনে আনা যথেষ্ট নয়; প্রশাসনিক কাঠামো ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।”

      সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী জানান, এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা ছিল। বিশ্বের অনেক দেশেই একীভূত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পরিচালিত হয়। সমন্বয়হীনতা কাটাতে পারলে শিক্ষাখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।


      নতুন কাঠামোর সম্ভাব্য সুফল:

      • কারিকুলামের ধারাবাহিকতা: প্রাথমিক স্তরের ভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই উচ্চশিক্ষার রূপরেখা তৈরি হবে।
      • শিক্ষক নিয়োগ: ফাইল চালাচালির সময়ক্ষেপণ কমবে, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
      • অবকাঠামোগত বৈষম্য: গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈষম্য দূর করা সহজ হবে।