ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘ব্যবসা বাঁচাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন’: ডিসিসিআই

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে সোমবার ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে না পারলে নতুন সরকারের ‘এক কোটি কর্মসংস্থান’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:

  • অব্যাহত চাঁদাবাজি: ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। তাসকিন আহমেদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে।
  • দুর্নীতি ও কর-জিডিপি অনুপাত: সরকারি দপ্তরে (পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর) দুর্নীতি না কমায় ব্যবসার খরচ বাড়ছে এবং কর-জিডিপি অনুপাত আশানুরূপ বাড়ছে না।
  • এনবিআর সংস্কার: এনবিআর-এর প্রশাসনিক পৃথকীকরণ এবং আগামী ৮ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • আর্থিক খাতের সংকট: বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (৬.৪৯%) নেমে এসেছে। নীতি সুদহার উচ্চ হওয়ায় ঋণের সুদ এখন ১৬-১৭ শতাংশে ঠেকেছে, যা ব্যবসার কার্যকরী মূলধনে টান ফেলছে।
  • খেলাপি ঋণের পাহাড়: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাস করায় খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৩৬%) দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি ও সুপারিশসমূহ:

বিনিয়োগ সহজীকরণ: বিডা-র (BIDA) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা এবং ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিলতা দূর করা।
মুদ্রানীতি ও ঋণ সুবিধা: নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ও নিয়মিত ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালু করা।
কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষা: দেশে বর্তমানে ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার মাধ্যমে এই জনশক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন।

“দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। নতুন সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।” — তাসকিন আহমেদ, সভাপতি, ডিসিসিআই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে ১২ বিঘার সূর্যমুখী বাগান: কৃষি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত

‘ব্যবসা বাঁচাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন’: ডিসিসিআই

আপডেট সময় : ০১:৫০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে সোমবার ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে না পারলে নতুন সরকারের ‘এক কোটি কর্মসংস্থান’ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:

  • অব্যাহত চাঁদাবাজি: ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। তাসকিন আহমেদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে।
  • দুর্নীতি ও কর-জিডিপি অনুপাত: সরকারি দপ্তরে (পুলিশ, সিটি করপোরেশন, আয়কর) দুর্নীতি না কমায় ব্যবসার খরচ বাড়ছে এবং কর-জিডিপি অনুপাত আশানুরূপ বাড়ছে না।
  • এনবিআর সংস্কার: এনবিআর-এর প্রশাসনিক পৃথকীকরণ এবং আগামী ৮ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া টার্নওভার কর ০.৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • আর্থিক খাতের সংকট: বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (৬.৪৯%) নেমে এসেছে। নীতি সুদহার উচ্চ হওয়ায় ঋণের সুদ এখন ১৬-১৭ শতাংশে ঠেকেছে, যা ব্যবসার কার্যকরী মূলধনে টান ফেলছে।
  • খেলাপি ঋণের পাহাড়: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা (গ্রেস পিরিয়ড) ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাস করায় খেলাপি ঋণ কৃত্রিমভাবে বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় (মোট ঋণের ৩৬%) দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি ও সুপারিশসমূহ:

বিনিয়োগ সহজীকরণ: বিডা-র (BIDA) ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা এবং ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জটিলতা দূর করা।
মুদ্রানীতি ও ঋণ সুবিধা: নীতি সুদহার কমানো এবং প্রকৃত ও নিয়মিত ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালু করা।
কর্মসংস্থান ও কারিগরি শিক্ষা: দেশে বর্তমানে ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার মাধ্যমে এই জনশক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন।

“দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। নতুন সরকারের উচিত দ্রুত ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।” — তাসকিন আহমেদ, সভাপতি, ডিসিসিআই।