১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহ খানেকের মাথায় পুলিশের নতুন পোশাক নিয়ে বড় ধরনের আপত্তি উঠেছে। পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত নতুন পোশাকটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত পছন্দ, দেশের আবহাওয়া এবং ব্যবহারিক উপযোগিতা বিবেচনা করা হয়নি।
২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে পুলিশে নতুন ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক প্রবর্তন করা হয়। বিগত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সংস্কারের অংশ হিসেবে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নীল ও সবুজ রঙের পুরনো পোশাক বদলে এই নতুন রঙের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এই পরিবর্তনের সময় বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের গঠিত কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের আগের পোশাকটি নির্ধারিত হয়েছিল। সেই সময় সদস্যদের গায়ের রং, বাংলাদেশের ঋতুভেদে আবহাওয়া এবং দিন ও রাতে ডিউটির সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানের নতুন পোশাকটি অন্য কিছু বাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে হুবহু মিলে যাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করছে সংগঠনটি।
অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা তাদের পুরনো পোশাকেই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরো বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করা একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের রং বা নকশা পরিবর্তন করার চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মন-মানসিকতার উন্নয়ন এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
এমন প্রেক্ষাপটে, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নতুন গঠিত সরকারের কাছে এই তড়িঘড়ি নেওয়া সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার এবং বাহিনীর জন্য কার্যকর ও সম্মানজনক পোশাক নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















