বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র পাহাড়ি গোষ্ঠী ‘জনসংহতি সমিতি’ (জেএসএস)-এর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেএসএস-এর এক সদস্য নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে।
সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বান্দরবান-রুমা সড়কের মুরুং বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। যদিও এলাকাটি রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের অন্তর্গত, তবে এটি রুমা উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থিত।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিরাপত্তা সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করছিল। বান্দরবান থেকে রুমার দিকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহল দল সেখানে পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। এই গোলাগুলিতে জেএসএস-এর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।
গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল তল্লাশি করে জেএসএস সদস্যের পোশাক পরিহিত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তার কাছ থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), দুটি ম্যাগাজিন, ১৪৩টি গুলি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা বাহিনী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে, তবে তিনি মৃত ছিলেন। মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সোমবার বিকেল পাঁচটায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল)-এর একটি সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সেনাসদস্যরা অবৈধভাবে চাঁদা আদায়রত অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জেএসএস সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে এবং সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করে তাদের ধাওয়া করে। সন্ত্রাসীরা একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই অভিযানে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত হ্লামংনু মার্মা নামের একজন সশস্ত্র জেএসএস সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি-গোলাবারুদসহ উদ্ধার করা হয়। জরুরি ভিত্তিতে তাকে পুলিশের সহায়তায় বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান, ১৪৩টি এসএমজি-র গুলি, পিস্তলের ১৪টি গুলি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























