মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

চবির ৩৬তম সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে, ছাত্র প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আগামী ৮ আগস্ট তার ৩৬তম সিনেট সভা অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ এই সভায় কেবলমাত্র আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সিনেট সভায় থাকার কথা থাকলেও এবার কোনো ছাত্র প্রতিনিধি সভায় অংশ নিতে পারবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২২ ধারা অনুযায়ী, সিনেট সভায় উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঁচজন অধ্যক্ষ এবং ১০ জন শিক্ষক, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৫ প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ সভায় নির্বাচিত ৩৩ শিক্ষক প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি থাকার নিয়ম রয়েছে।

বর্তমানে সিনেটের ১২টি ক্যাটাগরির মধ্যে আচার্য মনোনীত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে থাকা পাঁচজন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে থাকা ৩৩ জনের (বর্তমানে ২৪ জন) সবাই আওয়ামীপন্থী বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল ৩৩টি পদেই জয়লাভ করেছিল। সেই সময় বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সিনেট সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এসব পদে নতুন নির্বাচন, মনোনয়ন বা নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারত, কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে, সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ছাত্র প্রতিনিধি শ্রেণির মধ্যে একটি হলো রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৫ জন প্রতিনিধি। এই শ্রেণির নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি নির্বাচনই হয়নি। ফলে, এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভাগুলোতে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার সুযোগ পাননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি মাসে ২টি লঘুচাপ ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

চবির ৩৬তম সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে, ছাত্র প্রতিনিধিরা অনুপস্থিত

আপডেট সময় : ০৯:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আগামী ৮ আগস্ট তার ৩৬তম সিনেট সভা অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও নীতি নির্ধারণের সর্বোচ্চ এই সভায় কেবলমাত্র আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সিনেট সভায় থাকার কথা থাকলেও এবার কোনো ছাত্র প্রতিনিধি সভায় অংশ নিতে পারবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ২২ ধারা অনুযায়ী, সিনেট সভায় উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঁচজন অধ্যক্ষ এবং ১০ জন শিক্ষক, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৫ প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিশেষ সভায় নির্বাচিত ৩৩ শিক্ষক প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি থাকার নিয়ম রয়েছে।

বর্তমানে সিনেটের ১২টি ক্যাটাগরির মধ্যে আচার্য মনোনীত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে থাকা পাঁচজন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে থাকা ৩৩ জনের (বর্তমানে ২৪ জন) সবাই আওয়ামীপন্থী বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দল ৩৩টি পদেই জয়লাভ করেছিল। সেই সময় বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সিনেট সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এসব পদে নতুন নির্বাচন, মনোনয়ন বা নিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারত, কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে, সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ছাত্র প্রতিনিধি শ্রেণির মধ্যে একটি হলো রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৫ জন প্রতিনিধি। এই শ্রেণির নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি নির্বাচনই হয়নি। ফলে, এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভাগুলোতে কোনো ছাত্র প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার সুযোগ পাননি।