বাংলাদেশ পুলিশের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি জট, প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য এবং সুনির্দিষ্ট লজিস্টিক সুবিধার অভাবের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে হতাশা ও চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি, পুলিশের মনোবল বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য দৃশ্যমান জোরালো কোনো উদ্যোগ না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়ছে।
‘আমার দেশ’ পত্রিকার পক্ষ থেকে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের পরিদর্শক, উপপরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপপরিদর্শকদের (এএসআই) সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রশাসনিক দরকষাকষিতে বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে পদোন্নতি জটসহ পুলিশের দাবি-দাওয়া আদায়, হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ও জোরালো কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। এর ফলে সুশৃঙ্খল এই বাহিনীটির অভ্যন্তরীণ চেইন অব কমান্ড ও কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে তরুণ ক্যাডার অফিসারদের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য। গত তিন সপ্তাহ ধরে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অন্তত ২০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তাদের চাপা অসন্তোষ ও ক্ষোভের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত ও দ্রুতগতিতে পদোন্নতি পেয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা পুলিশ ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। পুলিশ ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা পদোন্নতি জটিলতার কারণে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে স্থবির হয়ে আছেন। অন্যদিকে, তাদের অনেক জুনিয়র প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ ও ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারাও ইতোমধ্যে যুগ্ম সচিব (ডিআইজি পদমর্যাদায়) পদে উন্নীত হয়েছেন। প্রশাসনিক প্রথা অনুযায়ী, যুগ্ম সচিবের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা ডিআইজি পদের সমতুল্য বা ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক দিক থেকে অধিকতর সুবিধাজনক। এছাড়াও, প্রশাসন ক্যাডারে সুপারনিউমারারি (পদের অতিরিক্ত) পদোন্নতির সুযোগ অকৃপণভাবে ব্যবহার করা হলেও পুলিশ ক্যাডারে এ চর্চা প্রায় অদৃশ্য।
এ বিষয়ে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ ও ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা যে ডেকোরামগত সুবিধা পান, পুলিশের ২০, ২১ ও ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তারা তা পান না।
রিপোর্টারের নাম 



















