গত বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হতে যাচ্ছে। সে সময় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করা ক্লাব সংগঠকরা এবার আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার মাধ্যমে তারা বিসিবির বর্তমান বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
বিসিবি নির্বাচন ঘিরে গত বছর ব্যাপক নাটকীয়তা দেখা যায়। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একটি পক্ষ অভিযোগ তোলে যে, তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব খাটিয়েছেন এবং পছন্দের লোক বসিয়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিলেও, পরবর্তীতে বিসিবি চেম্বার জজ আদালত থেকে সেই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। ফলে আইনি জটিলতা ছাড়াই একপেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ায় এবং বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পূর্বের অবস্থানের ওপর ভরসা রেখে ক্লাব সংগঠকরা নতুন করে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছেন। ক্লাব সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের বিশ্বাস, হাইকোর্টে যেমন রায় তাদের পক্ষে এসেছিল, আপিলেও তেমনই ফল আসবে এবং এর মাধ্যমে বর্তমান বিসিবি বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে।
বিদ্রোহী পক্ষ গত নির্বাচনের আগে-পরে বেশ কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানায়। সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তারা ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটেও অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে, যার ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব গ্রহণের আগেও বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন। ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই অবস্থান তাদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস যোগাচ্ছে।
এদিকে, বিসিবির বর্তমান পরিচালকরা এই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এখনই তেমন চিন্তিত নন। বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, আদালতের রায়ে বিসিবিতে রদবদল এলে তা বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি স্বাভাবিকভাবে নেবে না। তবে রফিকুল ইসলাম বাবু পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সবারই জানা এবং আইসিসিকে ইতোমধ্যে সব জানানো হয়েছে। তার বিশ্বাস, আদালতের রায়ে বিসিবিতে রদবদল এলেও তাতে কোনো সমস্যা হবে না এবং একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পর আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও কবে নাগাদ আপিল করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি। রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























