মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

রূপপুর প্রকল্পে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, জাল সনদ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিনা বেগমের দায়ের করা এক জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অধীনে সম্পন্ন হওয়া বেশ কিছু নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করা হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুশফিকা আহমেদকে ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে প্রয়োজনীয় ৯ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল না। বরং তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপক পদে আল মামুন ও নাজমুল হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক পদে আবু কায়সারের নিয়োগে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যবস্থাপক পদের নিয়োগ নিয়ে। এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভুয়া সনদ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। একই পদে মেরাজ আল মামুনের বিরুদ্ধেও জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, তদন্ত কমিটিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড এবং প্রশাসনিক নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অযোগ্য বা ভুয়া সনদধারীদের নিয়োগ প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হুথিদের হুমকি উপেক্ষা করে লোহিত সাগর পার হলো সৌদি আরবের দুই তেলবাহী জাহাজ

রূপপুর প্রকল্পে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় : ১০:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, জাল সনদ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রোববার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিনা বেগমের দায়ের করা এক জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অধীনে সম্পন্ন হওয়া বেশ কিছু নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করা হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুশফিকা আহমেদকে ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে প্রয়োজনীয় ৯ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল না। বরং তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যবস্থাপক পদে আল মামুন ও নাজমুল হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক পদে আবু কায়সারের নিয়োগে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যবস্থাপক পদের নিয়োগ নিয়ে। এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চাকরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভুয়া সনদ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। একই পদে মেরাজ আল মামুনের বিরুদ্ধেও জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, তদন্ত কমিটিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড এবং প্রশাসনিক নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অযোগ্য বা ভুয়া সনদধারীদের নিয়োগ প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।