ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার এখনো বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শোভা পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে জনদুর্ভোগেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর, বারইয়ারহাট, জোরারগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করা হয়নি। বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ এবং দেয়াল জুড়ে টানানো এসব প্রচার সামগ্রী এলাকার পরিবেশকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন প্রণীত আচরণবিধি অনুযায়ী, ফলাফল গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে সকল প্রচার সামগ্রী অপসারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণ না করলে তা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ীদের গেজেট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল ফলাফল হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। সেই হিসেবে, গেজেট প্রকাশের প্রায় ১০ দিন পরও এই প্রচার সামগ্রীগুলো অপসারণ করা হয়নি।
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তারা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদারকি করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন বিজয়ী হয়েছেন। তার পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী জানিয়েছেন যে, আইনে যদি নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অপসারণের নিয়ম থাকে, তবে তিনি আগামীকাল সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।
বিএনপি প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান যে, তাদের কর্মীরা এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেননি, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রচার সামগ্রী অপসারণ করা হবে।
মিরসরাই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের পর সাত দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজ দায়িত্বে প্রচার সামগ্রী অপসারণ করার কথা। দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আবারও অবহিত করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























