ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য আসছে বেতন কাঠামো: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের জাতীয় পর্যায়ের সব খেলোয়াড়কে সরকারি বেতনের আওতায় আনার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল দেশের ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একটি বিস্তারিত তালিকা ফেডারেশনগুলোর কাছে চাওয়া হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকেই এই বেতনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসের মধ্যেই খেলোয়াড়দের গ্রেডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঈদের পর এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলায় আরও মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত এক বছরের কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে সকল ফেডারেশনের কাছে চাওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ক্রীড়াঙ্গনে সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ফেডারেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

আমিনুল হক আরও জানান, দেশের ৫১টি ফেডারেশনের মধ্যে অনেকগুলোই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। এর কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং সমজাতীয় খেলাধুলাকে একটি সংস্থার অধীনে নিয়ে আসার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। খেলার সরঞ্জাম আমদানিতে কর মওকুফ বা হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন, যা ক্রীড়া সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে এবং খেলোয়াড়দের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তিনি একজন খেলোয়াড় মানুষ এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে সভা শুরু করেছেন। তার ভিশন আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমাদের মাঠের প্রয়োজন এবং তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। ক্রীড়া কার্যক্রমকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিমন্ত্রী ৫২টি ফেডারেশনের সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর সমুদ্রে বিকল ট্রলার: ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্টগার্ড

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য আসছে বেতন কাঠামো: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের জাতীয় পর্যায়ের সব খেলোয়াড়কে সরকারি বেতনের আওতায় আনার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল দেশের ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একটি বিস্তারিত তালিকা ফেডারেশনগুলোর কাছে চাওয়া হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকেই এই বেতনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসের মধ্যেই খেলোয়াড়দের গ্রেডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঈদের পর এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলায় আরও মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত এক বছরের কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে সকল ফেডারেশনের কাছে চাওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলো ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, ক্রীড়াঙ্গনে সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ফেডারেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

আমিনুল হক আরও জানান, দেশের ৫১টি ফেডারেশনের মধ্যে অনেকগুলোই কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। এর কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং সমজাতীয় খেলাধুলাকে একটি সংস্থার অধীনে নিয়ে আসার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। খেলার সরঞ্জাম আমদানিতে কর মওকুফ বা হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন, যা ক্রীড়া সামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে এবং খেলোয়াড়দের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তিনি একজন খেলোয়াড় মানুষ এবং অত্যন্ত চমৎকারভাবে সভা শুরু করেছেন। তার ভিশন আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমাদের মাঠের প্রয়োজন এবং তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। ক্রীড়া কার্যক্রমকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিমন্ত্রী ৫২টি ফেডারেশনের সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং নোট নিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।