ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ: প্রতিমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের সুদূরপ্রসারী প্রস্তাবনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একটি বিস্তৃত ও সুচিন্তিত প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার, তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। আজ এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্রীড়া সাংবাদিকরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে এই সুপারিশগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের মতে, দেশের প্রতিটি জেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠকদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্রীড়া উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটির আধিপত্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সাংবাদিকদের প্রস্তাব, এই অ্যাডহক কমিটিগুলো দ্রুত ভেঙে দিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীদের দায়িত্বে আনা হোক। নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে গঠনতন্ত্র সংশোধনেরও সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্যরাও পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাধুলার উন্নয়নেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, আর্চারি ও শ্যুটিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি ফেডারেশনগুলোর মূল্যায়ন অর্জনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ক্রীড়া সংগঠকদের যথাযথ স্বীকৃতি ও ভূমিকার গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নকে অগ্রগতির অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে, সাংবাদিকরা মাঠ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং সরঞ্জামের পরিমাণ ও মান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রতিটি স্কুলে অন্তত পাঁচটি ক্রীড়া ইভেন্টকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল মাঠ উন্মুক্ত রাখা এবং নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকরা ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনভিত্তিক নেতৃত্বই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-কে প্রতিটি ফেডারেশনের জন্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুবর্ণ সুযোগ লাভ করতে পারেন। সামগ্রিকভাবে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক দীর্ঘমেয়াদী ও ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর সমুদ্রে বিকল ট্রলার: ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করল কোস্টগার্ড

ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ: প্রতিমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের সুদূরপ্রসারী প্রস্তাবনা

আপডেট সময় : ০৫:১৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একটি বিস্তৃত ও সুচিন্তিত প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার, তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রাজনীতিমুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়েছে। আজ এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্রীড়া সাংবাদিকরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে এই সুপারিশগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের মতে, দেশের প্রতিটি জেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবেক খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠকদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্রীড়া উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটির আধিপত্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সাংবাদিকদের প্রস্তাব, এই অ্যাডহক কমিটিগুলো দ্রুত ভেঙে দিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীদের দায়িত্বে আনা হোক। নির্বাচন আয়োজনের পূর্বে গঠনতন্ত্র সংশোধনেরও সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্যরাও পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলাধুলার উন্নয়নেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, আর্চারি ও শ্যুটিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি ফেডারেশনগুলোর মূল্যায়ন অর্জনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ক্রীড়া সংগঠকদের যথাযথ স্বীকৃতি ও ভূমিকার গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নকে অগ্রগতির অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে, সাংবাদিকরা মাঠ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং সরঞ্জামের পরিমাণ ও মান বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রতিটি স্কুলে অন্তত পাঁচটি ক্রীড়া ইভেন্টকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, স্কুল ছুটির পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল মাঠ উন্মুক্ত রাখা এবং নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকরা ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনভিত্তিক নেতৃত্বই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-কে প্রতিটি ফেডারেশনের জন্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উন্নত প্রশিক্ষণ ও সুবর্ণ সুযোগ লাভ করতে পারেন। সামগ্রিকভাবে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক দীর্ঘমেয়াদী ও ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।