সংযম, প্রার্থনা ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র রমজান মাস প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য এক বিশেষ আশীর্বাদ। বাড়ির বড়দের রোজা পালন, সেহরি ও ইফতারের প্রস্তুতি দেখে শিশুদের মনেও এক ধরনের কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়। শৈশব থেকেই শিশুদের মধ্যে রমজানের গুরুত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা গড়ে তোলা বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব। কেবল আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং শিশুর মানসিক বিকাশে রমজানকে কীভাবে অর্থবহ করে তোলা যায়, তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
শিশুর কোমল মনে ইসলামের সুমহান আদর্শ গেঁথে দিতে তাদের পড়ার টেবিলে আকর্ষণীয় ধর্মীয় বই রাখা যেতে পারে। বাবা-মা যখন নিজে কোরআন তিলাওয়াত করেন বা ধর্মীয় চর্চা করেন, তা দেখে শিশুরাও অনুপ্রাণিত হয়। নবী-রাসুলদের জীবনী বা সাহাবীদের বীরত্বগাথা গল্পের ছলে তাদের শোনালে তারা ইসলামের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। ছোট ছোট সুরা বা দোয়া শেখার ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ প্রদান করা এবং সেগুলোর অর্থ সহজভাবে বুঝিয়ে বলা ইতিবাচক ফল দেয়।
সামাজিক শিষ্টাচার ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়বদ্ধতা শেখানোর জন্য রমজান এক মোক্ষম সময়। ইফতারের সময় পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টেবিলে বসার অভ্যাস তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতা তৈরি করে। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবেশীদের বাড়িতে ইফতার পাঠানোর দায়িত্বটি শিশুদের ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে আত্মিক প্রশান্তি ও মানবিকতাবোধ জাগ্রত হবে। পাশাপাশি পাড়ার সমবয়সী শিশুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
শিশুদের ভালো কাজের প্রতি আগ্রহী করতে ছোট ছোট পুরস্কারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তারা যদি রোজা রাখে কিংবা নতুন কোনো সুরা মুখস্থ করে, তবে তাদের পছন্দসই উপহার দিয়ে উৎসাহিত করুন। এছাড়া ঘরের পরিবেশে রমজানের আবহ ফুটিয়ে তুলতে শিশুদের সাহায্য নিন। জায়নামাজ, তসবিহ বা ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি দিয়ে ঘর সাজানোর কাজে তাদের যুক্ত করলে তারা এই মাসের প্রতি আলাদা এক ধরনের টান অনুভব করবে।
পরোপকার ও ত্যাগের শিক্ষা দিতে শিশুদের জন্য একটি ‘সদকা বক্স’ বা মাটির ব্যাংক তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে। মাসজুড়ে জমানো সেই অর্থ দিয়ে অসহায় বা এতিম শিশুদের সাহায্য করার শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে উদার হতে সাহায্য করবে। এছাড়া ইফতার তৈরির ছোটখাটো কাজে যেমন—শরবত বানানো বা টেবিল সাজানোতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেবল মুখরোচক নয়, বরং স্বাস্থ্যকর কী রাখা যায়, সে বিষয়ে তাদের মতামত নিন। এতে তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
মূলত রমজান মাস কেবল উপবাসের নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার সময়। শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা, সময় এবং ধর্মীয় আলোকবর্তিকা প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই রমজান হোক প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও শিক্ষণীয়।
রিপোর্টারের নাম 



















