ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উৎসবে সাজ সাজ রব: শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে উঠেছে বাজার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাঙালির প্রাণের উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না। ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে কেনাকাটা। নিজের জন্য নতুন পোশাকের পাশাপাশি প্রিয়জনদের উপহার দিতে এখন বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। রোজা শুরুর আগে থেকেই কেনাকাটার তোড়জোড় শুরু হলেও, উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, শপিং মলগুলোর ব্যস্ততা ততই বাড়ছে।

সাধারণত ভিড় এড়াতে অনেকেই রোজার শুরুর দিকেই কেনাকাটা সেরে ফেলেন। তবে বড় একটি অংশ অপেক্ষা করেন শেষ সময়ের জন্য। বিশেষ করে যারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য খুঁজছেন, তারা শেষ মুহূর্তের ছাড় বা অফার লুফে নিতে পছন্দ করেন। আবার মূল পোশাক কেনা হলেও তার সঙ্গে মানানসই অনুষঙ্গ যেমন—জুতা, গহনা বা ব্যাগ কেনার জন্য চাঁদরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন অনেকে।

ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে শিশুদের। তাই কেনাকাটার তালিকায় সবার আগে প্রাধান্য পায় ছোটদের রঙিন পোশাক। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের জন্য টুপি, চুলের ক্লিপ, চুড়ি কিংবা রঙিন জুতা কেনার ধুম পড়ে এ সময়ে। শুধু ব্যক্তিগত সাজগোজই নয়, ঈদের আমেজ ঘরে পৌঁছে দিতে অন্দরসজ্জাতেও আসে পরিবর্তন। নতুন পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনে শোপিস কেনার মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন গৃহিণীরা।

কেনাকাটার গন্তব্য হিসেবে রাজধানীর নিউমার্কেট এখনো সব শ্রেণির মানুষের কাছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সাশ্রয়ী মূল্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য একই ছাদের নিচে পাওয়ায় এখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এর পাশাপাশি মিরপুর ১০ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতগুলোতেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে অস্থায়ী দোকানগুলো। অন্যদিকে, যারা ঝামেলামুক্ত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক বা সীমান্ত স্কয়ারের মতো আধুনিক শপিং মলগুলো এখন পছন্দের শীর্ষে। সময়ের অপচয় রোধে অনেকেই এখন নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ শোরুমগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তবে শেষ সময়ের এই কেনাকাটায় সচেতন থাকা জরুরি। তাড়াহুড়ো করে কেনাকাটা করতে গিয়ে যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কেনাকাটার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করে নিলে কোনো কিছু বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ড ও অনলাইন শপ ‘স্টক ক্লিয়ারেন্স’ অফার দিয়ে থাকে, যেখান থেকে সুলভ মূল্যে পছন্দের পণ্যটি সংগ্রহ করা সম্ভব।

সবশেষে, উৎসবের এই ব্যস্ততায় নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা একান্ত প্রয়োজন। তীব্র গরম আর রোজার ক্লান্তি নিয়ে দীর্ঘ সময় ভিড়ের মাঝে কেনাকাটা করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেনাকাটার ফাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সুস্থ থেকে কেনাকাটার আনন্দ উপভোগ করাই হোক এবারের ঈদের সার্থকতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

উৎসবে সাজ সাজ রব: শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমে উঠেছে বাজার

আপডেট সময় : ০১:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাঙালির প্রাণের উৎসব ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না। ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে কেনাকাটা। নিজের জন্য নতুন পোশাকের পাশাপাশি প্রিয়জনদের উপহার দিতে এখন বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। রোজা শুরুর আগে থেকেই কেনাকাটার তোড়জোড় শুরু হলেও, উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, শপিং মলগুলোর ব্যস্ততা ততই বাড়ছে।

সাধারণত ভিড় এড়াতে অনেকেই রোজার শুরুর দিকেই কেনাকাটা সেরে ফেলেন। তবে বড় একটি অংশ অপেক্ষা করেন শেষ সময়ের জন্য। বিশেষ করে যারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য খুঁজছেন, তারা শেষ মুহূর্তের ছাড় বা অফার লুফে নিতে পছন্দ করেন। আবার মূল পোশাক কেনা হলেও তার সঙ্গে মানানসই অনুষঙ্গ যেমন—জুতা, গহনা বা ব্যাগ কেনার জন্য চাঁদরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন অনেকে।

ঈদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে শিশুদের। তাই কেনাকাটার তালিকায় সবার আগে প্রাধান্য পায় ছোটদের রঙিন পোশাক। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের জন্য টুপি, চুলের ক্লিপ, চুড়ি কিংবা রঙিন জুতা কেনার ধুম পড়ে এ সময়ে। শুধু ব্যক্তিগত সাজগোজই নয়, ঈদের আমেজ ঘরে পৌঁছে দিতে অন্দরসজ্জাতেও আসে পরিবর্তন। নতুন পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনে শোপিস কেনার মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন গৃহিণীরা।

কেনাকাটার গন্তব্য হিসেবে রাজধানীর নিউমার্কেট এখনো সব শ্রেণির মানুষের কাছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সাশ্রয়ী মূল্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য একই ছাদের নিচে পাওয়ায় এখানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এর পাশাপাশি মিরপুর ১০ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতগুলোতেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে অস্থায়ী দোকানগুলো। অন্যদিকে, যারা ঝামেলামুক্ত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক বা সীমান্ত স্কয়ারের মতো আধুনিক শপিং মলগুলো এখন পছন্দের শীর্ষে। সময়ের অপচয় রোধে অনেকেই এখন নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ শোরুমগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

তবে শেষ সময়ের এই কেনাকাটায় সচেতন থাকা জরুরি। তাড়াহুড়ো করে কেনাকাটা করতে গিয়ে যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কেনাকাটার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করে নিলে কোনো কিছু বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ড ও অনলাইন শপ ‘স্টক ক্লিয়ারেন্স’ অফার দিয়ে থাকে, যেখান থেকে সুলভ মূল্যে পছন্দের পণ্যটি সংগ্রহ করা সম্ভব।

সবশেষে, উৎসবের এই ব্যস্ততায় নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা একান্ত প্রয়োজন। তীব্র গরম আর রোজার ক্লান্তি নিয়ে দীর্ঘ সময় ভিড়ের মাঝে কেনাকাটা করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেনাকাটার ফাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সুস্থ থেকে কেনাকাটার আনন্দ উপভোগ করাই হোক এবারের ঈদের সার্থকতা।