পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও সংযমের। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর শরীরকে কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখতে সেহরিতে সঠিক খাদ্য নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিনের শক্তি জোগাতে সেহরির খাবার হওয়া চাই সুষম, পুষ্টিকর এবং একই সঙ্গে সহজপাচ্য। অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে তৃপ্তিদায়ক ও স্বাস্থ্যকর মেন্যু নিশ্চিত করতে আজকের আয়োজনে থাকছে চমৎকার পাঁচটি রেসিপি।
চিতল মাছের রাজকীয় কোফতা
চিতল মাছের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই-ই অনন্য। এই পদের জন্য প্রয়োজন ৬০০ গ্রাম চিতল মাছের পিঠের অংশ, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, ২ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা, ৩ টেবিল চামচ বেরেস্তা, ১ টেবিল চামচ করে রসুন, পোস্ত ও কাজু বাদাম বাটা। এছাড়া লাগবে আদা বাটা, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, গরম মসলা, ঘি, মালাই ও দুধ।
প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে মাছের চামড়া ছাড়িয়ে খুব সাবধানে কাঁটা বেছে নিন। এবার মাছের কিমার সঙ্গে সামান্য আদা-রসুন বাটা, গোলমরিচ গুঁড়া, লবণ, লেবুর রস ও তেল মিশিয়ে ছোট ছোট বল বা কোফতা তৈরি করুন। প্যানে তেল ও ঘি গরম করে গরম মসলা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। এরপর সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মসলা কষানো হলে দুধ ও মালাই দিয়ে তাতে কোফতাগুলো ছেড়ে দিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে কাঁচামরিচ ও সামান্য চিনি দিয়ে নামিয়ে নিন।
বাঁধাকপিতে দেশি মুরগি
আমিষ ও সবজির এক চমৎকার মিশেল এই পদটি। উপকরণ হিসেবে লাগবে একটি দেশি মুরগি, ২ কাপ বড় করে কাটা বাঁধাকপি, পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, হলুদ-মরিচ গুঁড়া, জায়ফল-জয়ত্রী বাটা এবং গরম মসলা।
প্রস্তুত প্রণালি: মুরগির মাংস ধুয়ে আদা, রসুন ও লবণ দিয়ে ম্যারিনেট করে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। মসলা থেকে তেল ছেড়ে দিলে মাংস দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। মাংস আধা-সেদ্ধ হয়ে এলে বাঁধাকপির টুকরো দিন। অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করুন। নামানোর আগে ভাজা জিরা গুঁড়া ও সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিলে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
সরষের তেলে ইলিশের ডিম ভুনা
ভাতের সঙ্গে ইলিশের ডিম ভুনা অনেকেরই প্রিয়। এর জন্য ৫টি ইলিশের ডিম, ২ কাপ পেঁয়াজ কুচি, হলুদ-মরিচ ও ধনে গুঁড়া, লেবুর রস এবং সরষের তেল প্রয়োজন।
প্রস্তুত প্রণালি: ফ্রাইপ্যানে সরষের তেল গরম করে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন। এরপর সব গুঁড়া মসলা ও সামান্য পানি দিয়ে মশলা কষিয়ে নিন। কষানো মসলায় মাছের ডিম দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ঝোল শুকিয়ে তেলের ওপর উঠে এলে লেবুর রস মিশিয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে এটি দারুণ তৃপ্তিদায়ক।
পুষ্টিকর সবজি পাকোড়া
সেহরিতে একঘেয়েমি কাটাতে পাতে রাখতে পারেন সবজি পাকোড়া। ফুলকপি, গাজর, পাতাকপি, টমেটো, আলু ও শিমের মিশ্রণে এটি তৈরি করা যায়। বাইন্ডিংয়ের জন্য লাগবে ময়দা, ডিম ও বেকিং পাউডার।
প্রস্তুত প্রণালি: সব সবজি কুচি করে নিয়ে তাতে আদা বাটা, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ কুচি, জিরা গুঁড়া, লবণ, ডিম ও ময়দা দিয়ে মাখিয়ে নিন। প্যানে তেল গরম করে ছোট ছোট আকারে বড়া বা পাকোড়া ভেজে নিন। দুই পিঠ বাদামি ও মুচমুচে হলে তুলে নিন।
ফুলকপির ঝাল পাকোড়া
যারা একটু ঝাল পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই পদটি বেশ মুখরোচক। মাঝারি আকারের ফুলকপি টুকরো করে নিয়ে তাতে তন্দুরি মসলা, চিলি পেস্ট, আদা-রসুন বাটা, ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করতে হবে।
প্রস্তুত প্রণালি: ফুলকপির টুকরোগুলো সামান্য ভাপিয়ে নিন। এবার ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার ও সব মসলা দিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ফুলকপির টুকরোগুলো এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ডুবো তেলে ভেজে নিন। ভাজা হয়ে গেলে নামানোর আগে কারিপাতা ও আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে আরও একবার হালকা ভেজে তুলে নিন। এটি সেহরির দস্তরখানে বৈচিত্র্য আনবে।
রিপোর্টারের নাম 



















