তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এক অভাবনীয় দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখন থেকে কয়েক হাজার বছরের বিশাল তথ্যভাণ্ডার অনায়াসেই জমা রাখা যাবে মাত্র দুই মিলিমিটার পুরুত্বের এক ক্ষুদ্র কাঁচের টুকরোয়। মাইক্রোসফটের ‘প্রজেক্ট সিলিকা’র আওতায় বিজ্ঞানীদের এই উদ্ভাবন তথ্য সংরক্ষণের সনাতন ধারণা ও সক্ষমতাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র ১২ বর্গ সেন্টিমিটার আয়তনের এবং ২ মিলিমিটার পুরুত্বের এই বিশেষ কাঁচের টুকরোয় ৪.৮৪ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে বলা যায়, এই ক্ষুদ্র কাঁচটিতে প্রায় ২০ লাখ বই অথবা ৫ হাজারটি ‘ফোর-কে’ (4K) রেজোলিউশনের উচ্চমানের চলচ্চিত্র জমা রাখা যাবে। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, বিশেষ এক ধরনের লেজার ব্যবহার করে কাঁচের ভেতরে ‘ভক্সেল’ নামক ত্রিমাত্রিক পিক্সেল তৈরি করে তথ্যের সংকেত খোদাই করা হয়।
এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর স্থায়িত্ব। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রাতেও এই তথ্যভাণ্ডার প্রায় ১০ হাজার বছর পর্যন্ত অক্ষত থাকতে সক্ষম। সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় এর স্থায়িত্বকাল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। তবে দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চ তাপ সহনশীল হলেও, এই কাঁচের টুকরোটি জোরালো যান্ত্রিক আঘাত বা রাসায়নিক ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষক ফেং চেন ও বো উ এই উদ্ভাবন সম্পর্কে অত্যন্ত আশাবাদী। তাদের মতে, এই প্রযুক্তিটি যদি বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা মানবজাতির জ্ঞান সংরক্ষণের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। প্রাচীনকালের হাড়ের লিপি, মধ্যযুগীয় পার্চমেন্ট কিংবা আধুনিককালের হার্ড ড্রাইভের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই কাঁচের টুকরোটি হয়ে উঠবে মানব সংস্কৃতি ও জ্ঞানের দীর্ঘমেয়াদী বাহক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেভাবে এক সময় কাগজ কিংবা ছাপাখানার উদ্ভাবন মানবসভ্যতাকে বদলে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ‘প্রজেক্ট সিলিকা’র এই আবিষ্কার আধুনিক সভ্যতার তথ্য সংরক্ষণের ইতিহাসে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে। হাজার বছর পরের প্রজন্মও আজকের দিনের ইতিহাস ও জ্ঞান অনায়াসেই এই কাঁচের টুকরো থেকে উদ্ধার করতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 



















