ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: অনিশ্চিত প্রথম দিনের সভাপতিত্ব, নতুন স্পিকার নির্বাচন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সংবিধানের বাধ্যবাধকতা মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ মার্চ বা এর দুয়েকদিন আগে এই অধিবেশন শুরু হতে পারে। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনের বৈঠকের সভাপতিত্ব কে করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।

বঙ্গভবন, সংসদ সচিবালয় এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসা বাধ্যতামূলক। সে হিসাবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই এই অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রুতই অধিবেশন ডাকবেন। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

তবে, এবারের অধিবেশনের একটি বিশেষ দিক হলো, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দিনের বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদের বিধিবিধান, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সভাপতি নির্ধারণ করা হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কোনো সংসদ সদস্য বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) প্রথম দিনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন। উল্লেখ্য, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এর আগে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা আশা করছি, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিবেশন হবে। এটি ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে হতে পারে। সংসদের অধিবেশন রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেন, তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ প্রথম দিনের সভাপতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সেক্ষেত্রে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনে সিনিয়র কোনো সদস্যের সভাপতিত্ব করার নজির রয়েছে। এবারের অধিবেশনেও এমনটিই হবে। তবে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে সরকারি দল। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে আমরা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করব।’

সংসদ সচিবালয় সূত্র মতে, প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে স্পিকারের সঙ্গেই ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন। তবে সংসদ চাইলে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হতে পারে। জুলাই সনদ অনুযায়ী এবার ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত। স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে।

সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ও বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোকপ্রস্তাব পাঠসহ সংসদের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের সঙ্গেই থাকব ইনশাআল্লাহ। জনগণ ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণই হবে আমাদের মূল দায়িত্ব।’ তিনি গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে সংসদে ভূমিকা পালনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতেই এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দুনিয়ার সভ্য দেশগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, আমরা সেই সংস্কৃতিটা সংসদে দেখতে চাই। সংসদের দুটি অঙ্গ—একটি সরকারি দল ও আরেকটি বিরোধী দল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিরোধী দল যেন তার ন্যায্য কথা বলার অধিকার পায়, সেটা আমরা আশা করব।’

সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে সব ইস্যুতে বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: অনিশ্চিত প্রথম দিনের সভাপতিত্ব, নতুন স্পিকার নির্বাচন

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবিধানের বাধ্যবাধকতা মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামী মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ মার্চ বা এর দুয়েকদিন আগে এই অধিবেশন শুরু হতে পারে। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনের বৈঠকের সভাপতিত্ব কে করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।

বঙ্গভবন, সংসদ সচিবালয় এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসা বাধ্যতামূলক। সে হিসাবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই এই অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রুতই অধিবেশন ডাকবেন। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।

তবে, এবারের অধিবেশনের একটি বিশেষ দিক হলো, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম দিনের বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদের বিধিবিধান, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সভাপতি নির্ধারণ করা হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ কোনো সংসদ সদস্য বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) প্রথম দিনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন। উল্লেখ্য, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এর আগে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা আশা করছি, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিবেশন হবে। এটি ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে হতে পারে। সংসদের অধিবেশন রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেন, তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ প্রথম দিনের সভাপতিত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সেক্ষেত্রে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনে সিনিয়র কোনো সদস্যের সভাপতিত্ব করার নজির রয়েছে। এবারের অধিবেশনেও এমনটিই হবে। তবে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে সরকারি দল। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে আমরা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করব।’

সংসদ সচিবালয় সূত্র মতে, প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে স্পিকারের সঙ্গেই ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন। তবে সংসদ চাইলে নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হতে পারে। জুলাই সনদ অনুযায়ী এবার ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত। স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে।

সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ও বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোকপ্রস্তাব পাঠসহ সংসদের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জনগণের সঙ্গেই থাকব ইনশাআল্লাহ। জনগণ ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণই হবে আমাদের মূল দায়িত্ব।’ তিনি গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে সংসদে ভূমিকা পালনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতেই এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দুনিয়ার সভ্য দেশগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, আমরা সেই সংস্কৃতিটা সংসদে দেখতে চাই। সংসদের দুটি অঙ্গ—একটি সরকারি দল ও আরেকটি বিরোধী দল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিরোধী দল যেন তার ন্যায্য কথা বলার অধিকার পায়, সেটা আমরা আশা করব।’

সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে সব ইস্যুতে বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন।