মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাব ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মুজিববাদী স্লোগান’ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস’ অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ)। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ‘মুজিববাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে’ এবং এই ‘গণহত্যাকারী’দের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার জেআরজেএ’র দপ্তর সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছয়জন সাংবাদিকসহ দেড় হাজার ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে আবারও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে সাংবাদিক পরিচয়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত। মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের পবিত্রতা নষ্ট করে জাতীয় প্রেসক্লাব ও শহীদ মিনারকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শনিবার সকালে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ‘মুজিববাদী স্লোগান’ দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। জেআরজেএ’র সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইসরাফিল ফরাজী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট বাংলাদেশে মুজিববাদের কবর রচিত হয়েছে। সেই মুজিববাদকে পুনরায় জাতীয় প্রেসক্লাব দখলের উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে চাইছে গণহত্যাকারীরা।’ তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে দুর্বলতা ভেবে দেশে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো। এই অপচেষ্টার জবাব বাংলাদেশের মাটিতেই দেওয়া হবে।
যারা ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে এবং পবিত্র শহীদ মিনারের বেদীতে ‘মুজিববাদী স্লোগান’ দিয়ে ফুল দিয়েছে, তাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ফরাজী। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এই সরকার জুলাইয়ের হাজারো ছাত্রজনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে; এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করার চেষ্টা করলে তার জবাব জুলাইয়ের কোটি কোটি ছাত্রজনতা দেবে।’ তিনি দাবি করেন, আজ যারা প্রেসক্লাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, তাদের অধিকাংশই গণহত্যা মামলার আসামি। দ্রুত এসব ‘খুনি’দের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যারা প্রেসক্লাবে ‘মুজিববাদী স্লোগান’ দিয়েছে, তাদের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। একই সঙ্গে দাবি জানানো হয়, তাদের মধ্যে যদি কেউ এখনও প্রেসক্লাবের সদস্য থেকে থাকে, তবে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হোক। ‘কোনো খুনিকে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবে দেখতে চাই না,’ বিবৃতিতে যোগ করা হয়।
এসময় জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী শক্তির ঐক্য ধরে রেখে স্বৈরাচার ও খুনিদের প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী যেকোনো কাজে জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্টস’ অ্যালায়েন্স জাতীয় প্রেসক্লাবের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
রিপোর্টারের নাম 



















