ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

গাইডওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম: ইটের নিচে কলাগাছ!

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীন একটি সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে শক্ত মাটি বা কংক্রিট বিমের পরিবর্তে আস্ত কলাগাছ ব্যবহারের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর কাকইর চৌরাস্তা মোড়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত এই সড়কটির গাইডওয়াল নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চর কাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের নিচের অংশে ইটের গাঁথুনির জন্য মজবুত ভিত্তির পরিবর্তে চারপাশে কলাগাছ বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তার উপরেই ইটের গাঁথুনি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক নির্মাণ পদ্ধতি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা এর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়।

এলাকাবাসী হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করার মতো জঘন্য অনিয়মের পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার দাবি করেছেন যে, তিনি এমন কাজের নির্দেশ দেননি। তিনি বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রিদের জিজ্ঞাসা করেছি কেন এমন করা হয়েছে। আমি এখনই কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাজ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীর গুণগত মানও উন্নত।

শিবচর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরে অফিস খোলার পর তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। এই সুযোগে কিছু অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, কলাগাছগুলো সরিয়ে নতুন করে কাজ করানো হবে।

তবে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কির্ত্তনীয়া সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। আমরা উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা: ২০ প্রদেশ লক্ষ্যবস্তু, রেড ক্রিসেন্টের সতর্কবার্তা

গাইডওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম: ইটের নিচে কলাগাছ!

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীন একটি সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে শক্ত মাটি বা কংক্রিট বিমের পরিবর্তে আস্ত কলাগাছ ব্যবহারের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর কাকইর চৌরাস্তা মোড়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত এই সড়কটির গাইডওয়াল নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস আগে শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চর কাকইর এলাকার একটি মসজিদের সামনে নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের নিচের অংশে ইটের গাঁথুনির জন্য মজবুত ভিত্তির পরিবর্তে চারপাশে কলাগাছ বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তার উপরেই ইটের গাঁথুনি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক নির্মাণ পদ্ধতি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা এর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়।

এলাকাবাসী হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করার মতো জঘন্য অনিয়মের পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রীও ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার দাবি করেছেন যে, তিনি এমন কাজের নির্দেশ দেননি। তিনি বলেন, “আমি রাজমিস্ত্রিদের জিজ্ঞাসা করেছি কেন এমন করা হয়েছে। আমি এখনই কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাজ পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীর গুণগত মানও উন্নত।

শিবচর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরে অফিস খোলার পর তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। এই সুযোগে কিছু অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, কলাগাছগুলো সরিয়ে নতুন করে কাজ করানো হবে।

তবে, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র কির্ত্তনীয়া সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন বলে জানান।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “গাইডওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। আমরা উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”