ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমার মাতৃভাষার মতো তুমি, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আধুনিকতার ভিড়েও তুমি এক অনবদ্য দেশি কবিতা। প্রমিত ব্যাকরণের শৃঙ্খলে যতই তোমায় বাঁধতে চাই, তোমার নিজস্বতা এক ভিন্ন সুর তোলে। তুমি যেন আমার সহজ-সরল ভাষাভঙ্গির প্রতিচ্ছবি, বৈশাখী ঝড়ের মতো তোমার মধ্যে মিশে আছে দেশীয় ঝড়ের নিজস্বতা, যা ব্যাকরণের সব নিয়মকে অতিক্রম করে যায়। তোমাকে বহিরাগত কোনো উচ্চারণে ভালোবাসতে আমার মন চায় না, মন চায় একেবারে মন খুলে, হৃদয় উজাড় করে। আর তখনই আমি দেখি, ব্যাকরণের বাঁধন ভেঙে তুমি আমার সংস্কারের দিকে এগিয়ে আসো, ঠিক যেমন পদ্মা তার ভাঙনের খেলায় এগিয়ে আসে।

তোমার সান্নিধ্যে আমি এক অদ্ভুত লজ্জা অনুভব করি, এক অসহায়ত্ব আমাকে গ্রাস করে। সেই লজ্জায় আমার আত্মা যেন খুলে যায়, আর তুমি তোমার সমস্ত ইতিহাস নিয়ে আমার গভীরে প্রবেশ করো। তুমি আমার দেশি কবিতার মতো সুরেলা, ঘরোয়া শব্দের মতো নিজস্ব ও মিষ্টি। তোমাকে লিখতে গিয়ে আলাদা উপমার প্রয়োজন হয় না। পাকা ধানের আঁটি হয়ে যায় তোমার চুলের গোছা, বর্ষাকালের পুকুরের মতো দীঘল হয় তোমার চোখ। আলু তোলার পর যেমন শস্যদাত্রী খেত শুয়ে থাকে, তেমনি তোমার গালের স্নিগ্ধতা যেন সেই খেতের নাড়ার কাড়ির মতো। এই গালের ঘরোয়া স্পর্শ আর তোমার জিহ্বার দেশি উচ্চারণই আমাদের দুজনকে মিলিয়ে দিয়েছে, ঠিক যেমন এই বাংলার মাটি শীত ও সবজির এক না-শীত-না-গরমের মায়াবী সময়ে মিলেমিশে থাকে।

আমার নতুন লেখা কবিতার মতো তুমি ক্ল্যাসিক্যাল, আমার ঐতিহ্যের মতো তুমি আনন্দের উৎস। তুমি আমার শিকড়ের মতো, আমার মৌলিক পরিচয়ের মতো। তোমাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলা যায় আবেগের বশে, আবার এর অনুবাদ ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ও বলা যায়। কিন্তু বাংলার দিগন্তবিস্তৃত বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে যদি এই কথাটি বলতে যাও, তবে তা কেমন হাস্যকর শোনায়, ভেবে দেখো!

মাঝে মাঝে তোমাকে ভালোবেসে শুধু সালাম দিতে ইচ্ছে করে, যেমন আমার দাদী ৯৯ বছর চার মাস ধরে ভালোবেসে সালাম দিয়ে গেছেন তাঁর দাদাকে, অথবা ফুলোয়ারা বেগম সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহকে সালাম জানিয়েছিলেন। তুমি আড়িয়াল বিলের কচুরি ফুলের মতো এক অনন্য সৌন্দর্য, মিঠামইনের দেশি মুরগির মতো এক অকৃত্রিম স্বাদ। তোমার সান্নিধ্যে আমার কলিজায় যে শান্তি আসে, তা যেন চৈত্রের রোদেও আর জল পানের প্রয়োজন হতে দেয় না। তুমি কি বাংলা ভাষার মতো, নবীজির হাতের গেলাশে থাকা হাউসে কাউসারের পানি? যা একবার পান করলে জীবনের আর কখনো পিপাসা লাগে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

আমার মাতৃভাষার মতো তুমি, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আধুনিকতার ভিড়েও তুমি এক অনবদ্য দেশি কবিতা। প্রমিত ব্যাকরণের শৃঙ্খলে যতই তোমায় বাঁধতে চাই, তোমার নিজস্বতা এক ভিন্ন সুর তোলে। তুমি যেন আমার সহজ-সরল ভাষাভঙ্গির প্রতিচ্ছবি, বৈশাখী ঝড়ের মতো তোমার মধ্যে মিশে আছে দেশীয় ঝড়ের নিজস্বতা, যা ব্যাকরণের সব নিয়মকে অতিক্রম করে যায়। তোমাকে বহিরাগত কোনো উচ্চারণে ভালোবাসতে আমার মন চায় না, মন চায় একেবারে মন খুলে, হৃদয় উজাড় করে। আর তখনই আমি দেখি, ব্যাকরণের বাঁধন ভেঙে তুমি আমার সংস্কারের দিকে এগিয়ে আসো, ঠিক যেমন পদ্মা তার ভাঙনের খেলায় এগিয়ে আসে।

তোমার সান্নিধ্যে আমি এক অদ্ভুত লজ্জা অনুভব করি, এক অসহায়ত্ব আমাকে গ্রাস করে। সেই লজ্জায় আমার আত্মা যেন খুলে যায়, আর তুমি তোমার সমস্ত ইতিহাস নিয়ে আমার গভীরে প্রবেশ করো। তুমি আমার দেশি কবিতার মতো সুরেলা, ঘরোয়া শব্দের মতো নিজস্ব ও মিষ্টি। তোমাকে লিখতে গিয়ে আলাদা উপমার প্রয়োজন হয় না। পাকা ধানের আঁটি হয়ে যায় তোমার চুলের গোছা, বর্ষাকালের পুকুরের মতো দীঘল হয় তোমার চোখ। আলু তোলার পর যেমন শস্যদাত্রী খেত শুয়ে থাকে, তেমনি তোমার গালের স্নিগ্ধতা যেন সেই খেতের নাড়ার কাড়ির মতো। এই গালের ঘরোয়া স্পর্শ আর তোমার জিহ্বার দেশি উচ্চারণই আমাদের দুজনকে মিলিয়ে দিয়েছে, ঠিক যেমন এই বাংলার মাটি শীত ও সবজির এক না-শীত-না-গরমের মায়াবী সময়ে মিলেমিশে থাকে।

আমার নতুন লেখা কবিতার মতো তুমি ক্ল্যাসিক্যাল, আমার ঐতিহ্যের মতো তুমি আনন্দের উৎস। তুমি আমার শিকড়ের মতো, আমার মৌলিক পরিচয়ের মতো। তোমাকে ‘আই লাভ ইউ’ বলা যায় আবেগের বশে, আবার এর অনুবাদ ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ও বলা যায়। কিন্তু বাংলার দিগন্তবিস্তৃত বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে যদি এই কথাটি বলতে যাও, তবে তা কেমন হাস্যকর শোনায়, ভেবে দেখো!

মাঝে মাঝে তোমাকে ভালোবেসে শুধু সালাম দিতে ইচ্ছে করে, যেমন আমার দাদী ৯৯ বছর চার মাস ধরে ভালোবেসে সালাম দিয়ে গেছেন তাঁর দাদাকে, অথবা ফুলোয়ারা বেগম সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহকে সালাম জানিয়েছিলেন। তুমি আড়িয়াল বিলের কচুরি ফুলের মতো এক অনন্য সৌন্দর্য, মিঠামইনের দেশি মুরগির মতো এক অকৃত্রিম স্বাদ। তোমার সান্নিধ্যে আমার কলিজায় যে শান্তি আসে, তা যেন চৈত্রের রোদেও আর জল পানের প্রয়োজন হতে দেয় না। তুমি কি বাংলা ভাষার মতো, নবীজির হাতের গেলাশে থাকা হাউসে কাউসারের পানি? যা একবার পান করলে জীবনের আর কখনো পিপাসা লাগে না।