## শিরোনাম: “গণবিরোধী সরকার গঠিত হয়েছে” – জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ
ঢাকা: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ছাড়াই এবং জনগণের রায়ের বিপরীতে গিয়ে একটি “গণবিরোধী সরকার” গঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশে কোনো রক্তপাত ছাড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের রায় বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই কাজ করা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়িত না হয়, তবে জনগণ সরকারকে মেনে নেবে না এবং বিদ্রোহের পথ বেছে নিতে পারে। জনগণের কথা শোনার নামই শান্তি প্রতিষ্ঠা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত কোনো সরকারই জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। একইসাথে, বিরোধী দল হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতেও তারা প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল আন্দোলন-সংগ্রাম শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধেই হয়েছে। জনগণের মতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ বিদ্রোহী হয়ে রাজপথে নেমে আসে, এবং তখন কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকতে পারে না। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল “জেহাদ”-এর (আন্দোলন-সংগ্রাম) বিকৃত ও খণ্ডিত ইতিহাস নতুন করে লিখে তরুণ প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানানো প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিধান থাকলেও কেন তা কার্যকর হচ্ছে না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হলেই ভাষা সৈনিকদের আত্মদান ও ত্যাগের মূল্যায়ন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন অপরিহার্য। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাদ দিয়ে যারা গণতন্ত্রের কথা বলছে, তারা আসলে স্বৈরতন্ত্র কায়েমের পথে হাঁটছে। যে গণতন্ত্র রক্তপাত ঘটায় এবং মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, সেই গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ চায় না, তারা চায় মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্র। তিনি বলেন, একুশের চেতনা মানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা স্বৈরতন্ত্র নয়। একুশের চেতনা থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি সরকার “জুলাই চেতনা” বিনষ্টের চেষ্টা করে, তবে আরেকটি “জুলাই” সংঘটিত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর মাল্টিপারপাস হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ। সভায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদু সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় একুশে ফেব্রুয়ারি আছে কিন্তু একুশের চেতনা হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা অতীত ভুলে যাই। যারা ক্ষমতায় থাকে, তারাই নিজেদের সব অবদান দাবি করে এবং ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে। প্রকৃত অবদানকারীদের ভুলে গিয়ে অবজ্ঞা করা হয়। তিনি ইতিহাস বিকৃত করার পথ থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানান। যারা জুলাই আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছিল, তারাই এখন সব অর্জন নিজেদের বলে দাবি করছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরও তারা তা বাস্তবায়ন করতে চায় না, তাহলে কেন তারা স্বাক্ষর করেছিল, তা বিএনপি’র জাতির সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে গেলে পালিয়ে যেতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























