আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ীরা এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, এই উৎসবের সুযোগ নিয়ে একদল চাঁদাবাজ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এবং তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করতে পারে। বিশেষ করে, যুবলীগ নেতা ওমর শেঠ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, তারা এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে এই এলাকায় চাঁদার দাবিতে তৎকালীন আগানগর গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ওমর শেঠ এবং তার চার ভাই (মামুন শেঠ, হানিফ শেঠ, আলী শেঠ ও আসলাম শেঠ) আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন কারাভোগের পর, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ওমর শেঠ বাহিনী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। যদিও পাঁচ আগস্টের ঘটনার পর তারা কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন, তবে বর্তমানে তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও বাহিনীর সদস্য হানিফ শেঠ মারা গেছেন, তার বাকি চার ভাই এখনো সক্রিয় এবং তাদের সন্ত্রাসের ভয়ে এলাকার ব্যবসায়ীরা সর্বদা আতঙ্কিত থাকেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ওমর শেঠ এবং স্বাধীন শেখের নেতৃত্বে এই এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে। নির্বাচনের আগে তারা কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও, নির্বাচনের পরেই তাদের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগের দিন, চাঁদা না দেওয়ায় মাতাল অবস্থায় এক ব্যবসায়ী নেতার বাসভবনের সামনে তাণ্ডব চালানো হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেট, যেমন আলম সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, নুরু মার্কেট, খাজা মার্কেট এবং পূর্ব আগানগর মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ঈদের আগে ওমর শেঠ বাহিনী তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে। চাঁদা না দিলে দেলোয়ার হোসেনের মতো পরিণতির ভয় দেখানো হয়। এই কারণে, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা নীরবে তাদের চাঁদা দিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে পূর্বের অভিযোগগুলো তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
রিপোর্টারের নাম 























