ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জনজীবনের ব্যস্ততায় ফুটপাতের ইফতারের পসরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যস্ত নগরীর জীবনযাত্রায় এক ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। মাগরিবের আজানের সুর ভেসে আসার আগ মুহূর্তে কর্মব্যস্ত মানুষ ঘরে ফেরে ইফতারের প্রস্তুতি নিতে। ঠিক এমন এক সময়েই, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় নিম্ন আয়ের মানুষ, চালক, হেলপার, রিকশাচালক ও সিএনজি চালকদের ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মদিবসের শেষে, অল্প আয়োজনে এই ইফতার তাদের জন্য তৃপ্তি ও শুকরিয়া জানানোর এক অমূল্য মুহূর্ত।

পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে তারা বসে পড়েন ইফতারে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতার করার সুযোগ না থাকায়, তাদের নির্ভর করতে হয় ফুটপাতের সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ইফতারির উপর। রোজাদারদের প্রতিদিনের তালিকায় থাকে ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, খেজুর, আলুর চপ এবং বিভিন্ন ধরনের জুস। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে, এই সময়ে ফুটপাতগুলোতে মুখরোচক ও বাহারি ইফতারির সমাহার দেখা যায়।

গতকাল, রোজার দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, মহাখালী, তেজগাঁও, আগারগাঁও নতুন রাস্তা, সমাজকল্যাণ মোড়, নির্বাচন ভবনের সামনের সড়ক এবং পাসপোর্ট অফিস এলাকার মতো জনবহুল স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ইফতারির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। প্রতিদিন দুপুর থেকেই শুরু হয় এসব দোকানের কর্মযজ্ঞ, আর তিনটার পর থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়। অফিস ফেরত মানুষেরাই এখানকার প্রধান ক্রেতা, যারা বাসায় ফেরার পথে ইফতারি কিনে নেন।

কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট এলাকায় রিকশা চালান ৪৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম। প্রায় ১০ বছর ধরে এই নগরীতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বছরের অন্য সময়গুলো একরকম চললেও, রমজান মাস তার জন্য একটু ভিন্ন। পরিবার গ্রামে থাকায়, তাকে রাস্তায়ই ইফতার সারতে হয়। কখনো একা, আবার কখনো সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই ইফতার। রাস্তার পাশে ইফতার করার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রোজার দিনে এভাবেই দিন কাটে। দিন শেষে কয়েকজন মিলে একসঙ্গে ইফতার করি। সবার সঙ্গে ইফতার করে অনেক আনন্দ পাই। সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি কিনে ইফতার করি, এটাই আমার বড় তৃপ্তি।” তিনি আরও জানান, ফুটপাতে ইফতার করতে তার কোনো দুঃখ নেই, বরং রমজান মাস পেয়েছেন এতেই তিনি খুশি।

আগারগাঁও আইডিবির সামনে টং দোকানে ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন মনির হোসেন। তার দোকানে ১১ ধরনের ইফতার সামগ্রী পাওয়া যায়, যার মধ্যে মুড়ির প্যাকেট (৫০০ গ্রাম) ৭০ টাকা, সবজি পাকোড়া ১০ টাকা, পেঁয়াজু ১০ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, বেগুনি ৫ টাকা, ডিম চপ ১০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৩০ টাকা, ছোলা ২০০ টাকা কেজি, বুন্দিয়া ২০০ টাকা কেজি, মোটা জিলাপি ২৫০ টাকা কেজি এবং চিকন জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কিছুটা দূরে, সমাজসেবা অফিসের সামনে ইফতারের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি ছোলা ১৮০ টাকা কেজি, পেঁয়াজু ৫ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, বেগুনি ৫ টাকা, চিকেন টিকা ১০ টাকা, জালি কাবাব ১৫ টাকা, বাঁধাকপির পাকোড়া ১০ টাকা, বুন্দিয়া ২০০ টাকা কেজি, মোটা জিলাপি ২০০ টাকা কেজি এবং চিকন জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

শাহবাগ মোড়ে প্রতিদিন দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ইফতার করেন ফুলশ্রমিক নাজমা বানু। স্বামীহারা নাজমা চার সন্তান নিয়ে রাস্তায় ফুল বিক্রি করে সংসার চালান। বড় ছেলে ও এক মেয়ে গ্রামে দাদির কাছে থাকে। দিন শেষে সন্তান ও সহকর্মীদের সাথে ইফতার করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে ইফতার করতে ভালোই লাগে। আমার মেয়ে রোজা রাখে, আর ছেলে ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে না। ইফতারে যা জোগাড় করতে পারি, তা দিয়েই আমরা খুশি মনে ইফতার করি।”

বগুড়া থেকে ঢাকায় কাজ করতে আসা ফেরিওয়ালা নাঈম শেখ বন্ধু করিম মিয়ার সাথে ফুটপাতে বসেই ইফতার করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ইফতার করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন। সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু আর বেগুনি কিনতেই অনেক টাকা চলে যায়, ফলে কোনো ফল কিনে খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি।

মৌসুমি ইফতারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি, অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোও ফুটপাতে ইফতারির পসরা সাজিয়েছে। খোলা পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে জিলাপি, হালিমসহ বিভিন্ন তেলে ভাজা ইফতারসামগ্রী। বড়বাজার এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বিক্রি হচ্ছে ইফতারের প্রিয় ফল খেজুর। কেউ কেউ গ্রাহকদের সুবিধার জন্য পলিথিনে ইফতার সামগ্রী ঢেকে রেখেছেন, আবার কেউ খোলা পরিবেশেই বিক্রি করছেন। শত শত মানুষ ভিড় করে ইফতারি কিনছেন।

ফার্মগেটে বাস থামিয়ে ইফতার করছিলেন মিরপুরগামী বাসের হেলপার সুমন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের জীবন এভাবেই চলে, তাই রাস্তায় বসেই ইফতারি সারতে হচ্ছে। তবে ইফতারি আইটেমের দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সব জিনিসের দাম ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে ইফতারি আইটেমও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামের ইফতারি কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই রোজা রাখি, আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ইফতার করি।” তিনি জানান, সন্ধ্যায় একসঙ্গে ইফতারের মজাটাই আলাদা, পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সময় পান না, তাই দুই সহকর্মী মিলে মজা করে ইফতার করছেন।

তবে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ফুটপাতের খাবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফুটপাতের খাবারে অনেক সময় ক্ষতিকর মসলা ও রং ব্যবহার করা হয়, যা খাবারকে আকর্ষণীয় ও মুখরোচক করে তোলে। দিনভর রোজা পালনের পর তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এছাড়া, খোলা জায়গায় প্রদর্শিত খাবারে ধুলা ও জীবাণু মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে পেটের পীড়া, বদহজম এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারের ক্ষতিসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

জনজীবনের ব্যস্ততায় ফুটপাতের ইফতারের পসরা

আপডেট সময় : ০৯:২১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যস্ত নগরীর জীবনযাত্রায় এক ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। মাগরিবের আজানের সুর ভেসে আসার আগ মুহূর্তে কর্মব্যস্ত মানুষ ঘরে ফেরে ইফতারের প্রস্তুতি নিতে। ঠিক এমন এক সময়েই, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় নিম্ন আয়ের মানুষ, চালক, হেলপার, রিকশাচালক ও সিএনজি চালকদের ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মদিবসের শেষে, অল্প আয়োজনে এই ইফতার তাদের জন্য তৃপ্তি ও শুকরিয়া জানানোর এক অমূল্য মুহূর্ত।

পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে তারা বসে পড়েন ইফতারে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতার করার সুযোগ না থাকায়, তাদের নির্ভর করতে হয় ফুটপাতের সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ইফতারির উপর। রোজাদারদের প্রতিদিনের তালিকায় থাকে ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, খেজুর, আলুর চপ এবং বিভিন্ন ধরনের জুস। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে, এই সময়ে ফুটপাতগুলোতে মুখরোচক ও বাহারি ইফতারির সমাহার দেখা যায়।

গতকাল, রোজার দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, মহাখালী, তেজগাঁও, আগারগাঁও নতুন রাস্তা, সমাজকল্যাণ মোড়, নির্বাচন ভবনের সামনের সড়ক এবং পাসপোর্ট অফিস এলাকার মতো জনবহুল স্থানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ইফতারির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমেছে। প্রতিদিন দুপুর থেকেই শুরু হয় এসব দোকানের কর্মযজ্ঞ, আর তিনটার পর থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়। অফিস ফেরত মানুষেরাই এখানকার প্রধান ক্রেতা, যারা বাসায় ফেরার পথে ইফতারি কিনে নেন।

কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট এলাকায় রিকশা চালান ৪৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম। প্রায় ১০ বছর ধরে এই নগরীতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বছরের অন্য সময়গুলো একরকম চললেও, রমজান মাস তার জন্য একটু ভিন্ন। পরিবার গ্রামে থাকায়, তাকে রাস্তায়ই ইফতার সারতে হয়। কখনো একা, আবার কখনো সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই ইফতার। রাস্তার পাশে ইফতার করার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রোজার দিনে এভাবেই দিন কাটে। দিন শেষে কয়েকজন মিলে একসঙ্গে ইফতার করি। সবার সঙ্গে ইফতার করে অনেক আনন্দ পাই। সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি কিনে ইফতার করি, এটাই আমার বড় তৃপ্তি।” তিনি আরও জানান, ফুটপাতে ইফতার করতে তার কোনো দুঃখ নেই, বরং রমজান মাস পেয়েছেন এতেই তিনি খুশি।

আগারগাঁও আইডিবির সামনে টং দোকানে ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন মনির হোসেন। তার দোকানে ১১ ধরনের ইফতার সামগ্রী পাওয়া যায়, যার মধ্যে মুড়ির প্যাকেট (৫০০ গ্রাম) ৭০ টাকা, সবজি পাকোড়া ১০ টাকা, পেঁয়াজু ১০ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, বেগুনি ৫ টাকা, ডিম চপ ১০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৩০ টাকা, ছোলা ২০০ টাকা কেজি, বুন্দিয়া ২০০ টাকা কেজি, মোটা জিলাপি ২৫০ টাকা কেজি এবং চিকন জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কিছুটা দূরে, সমাজসেবা অফিসের সামনে ইফতারের বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি ছোলা ১৮০ টাকা কেজি, পেঁয়াজু ৫ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, বেগুনি ৫ টাকা, চিকেন টিকা ১০ টাকা, জালি কাবাব ১৫ টাকা, বাঁধাকপির পাকোড়া ১০ টাকা, বুন্দিয়া ২০০ টাকা কেজি, মোটা জিলাপি ২০০ টাকা কেজি এবং চিকন জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

শাহবাগ মোড়ে প্রতিদিন দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ইফতার করেন ফুলশ্রমিক নাজমা বানু। স্বামীহারা নাজমা চার সন্তান নিয়ে রাস্তায় ফুল বিক্রি করে সংসার চালান। বড় ছেলে ও এক মেয়ে গ্রামে দাদির কাছে থাকে। দিন শেষে সন্তান ও সহকর্মীদের সাথে ইফতার করার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে ইফতার করতে ভালোই লাগে। আমার মেয়ে রোজা রাখে, আর ছেলে ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে না। ইফতারে যা জোগাড় করতে পারি, তা দিয়েই আমরা খুশি মনে ইফতার করি।”

বগুড়া থেকে ঢাকায় কাজ করতে আসা ফেরিওয়ালা নাঈম শেখ বন্ধু করিম মিয়ার সাথে ফুটপাতে বসেই ইফতার করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ইফতার করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন। সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু আর বেগুনি কিনতেই অনেক টাকা চলে যায়, ফলে কোনো ফল কিনে খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি।

মৌসুমি ইফতারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি, অভিজাত রেস্তোরাঁগুলোও ফুটপাতে ইফতারির পসরা সাজিয়েছে। খোলা পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে জিলাপি, হালিমসহ বিভিন্ন তেলে ভাজা ইফতারসামগ্রী। বড়বাজার এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বিক্রি হচ্ছে ইফতারের প্রিয় ফল খেজুর। কেউ কেউ গ্রাহকদের সুবিধার জন্য পলিথিনে ইফতার সামগ্রী ঢেকে রেখেছেন, আবার কেউ খোলা পরিবেশেই বিক্রি করছেন। শত শত মানুষ ভিড় করে ইফতারি কিনছেন।

ফার্মগেটে বাস থামিয়ে ইফতার করছিলেন মিরপুরগামী বাসের হেলপার সুমন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের জীবন এভাবেই চলে, তাই রাস্তায় বসেই ইফতারি সারতে হচ্ছে। তবে ইফতারি আইটেমের দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সব জিনিসের দাম ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে, যার কারণে ইফতারি আইটেমও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামের ইফতারি কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই রোজা রাখি, আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ইফতার করি।” তিনি জানান, সন্ধ্যায় একসঙ্গে ইফতারের মজাটাই আলাদা, পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সময় পান না, তাই দুই সহকর্মী মিলে মজা করে ইফতার করছেন।

তবে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ফুটপাতের খাবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফুটপাতের খাবারে অনেক সময় ক্ষতিকর মসলা ও রং ব্যবহার করা হয়, যা খাবারকে আকর্ষণীয় ও মুখরোচক করে তোলে। দিনভর রোজা পালনের পর তেলে ভাজা এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এছাড়া, খোলা জায়গায় প্রদর্শিত খাবারে ধুলা ও জীবাণু মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা থেকে পেটের পীড়া, বদহজম এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারের ক্ষতিসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকে।