একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ হাজারো জনতা শহীদ মিনারে ভিড় করেন।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল সামরিক কায়দায় স্যালুট প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যবৃন্দ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিন বাহিনীর প্রধান যথাক্রমে সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশী সংস্থার প্রধানরা ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারাও শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রথম প্রহরে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের শ্রদ্ধা নিবেদন যখন চলছিল, তখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো সাধারণ মানুষ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ গভীর রাত থেকেই শহীদ মিনারের আশপাশে সমবেত হয়েছিলেন। তারা হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর জনতার ঢল নামে শহীদ বেদিতে।
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে এসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকলে একুশ ছিলো অবরুদ্ধ, এবার সেই একুশ মুক্ত।’’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন পরে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের যাঁতাকল থেকে একুশ মুক্ত হয়েছে। আমাদের অনুভূতি সেই জন্যেই একটু ভিন্ন রকম এবং আজকে একটা নির্বাচনের পরে যে সরকার, নির্বাচিত সরকার বিএনপির নতুন সরকার জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে, আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশাও অসীম হয়ে উঠেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা এটা প্রত্যাশা করছি যে, আমরা জনগণের যে প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোর জন্যে গণতান্ত্রিক সরকারের জন্যে একটা বাংলাদেশে একটি সত্যিকার অর্থেই একটা ইনসাফের ওপর ভিত্তি করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলা। একুশের যেটা মূল চেতনা ছিল, যে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন একটা সমাজ, একটা রাষ্ট্র গঠন করা, সেই চেতনার ভিত্তিতে আমরা আগামী দিনে এগিয়ে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের এই নতুন একুশের যে অনুপ্রেরণা, সে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে নিঃসন্দেহে জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা কাজ করতে সক্ষম হব। আমাদের মাতৃভাষাকে আমরা আরো সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবো, আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সমর্থ হবো।’’
রিপোর্টারের নাম 























