ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাষা শহীদদের স্মরণে জনতার ঢল, প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অমর একুশের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার অভিমুখে।

রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পর একে একে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিন বাহিনীর প্রধান – সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রধানরাও এ সময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনারের বেদি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে শহীদ মিনারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে হাজার হাজার মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই জনস্রোত মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার অভিমুখে জড়ো হয়, ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জানান দিতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে একুশ অবরুদ্ধ ছিল, এবার সেই একুশ মুক্ত।” তার এ মন্তব্যে একুশের তাৎপর্য ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উঠে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

ভাষা শহীদদের স্মরণে জনতার ঢল, প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অমর একুশের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার অভিমুখে।

রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পর একে একে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিন বাহিনীর প্রধান – সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রধানরাও এ সময় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনারের বেদি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ততক্ষণে শহীদ মিনারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে হাজার হাজার মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই জনস্রোত মধ্যরাতের আগেই শহীদ মিনার অভিমুখে জড়ো হয়, ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জানান দিতে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মন্তব্য করেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে একুশ অবরুদ্ধ ছিল, এবার সেই একুশ মুক্ত।” তার এ মন্তব্যে একুশের তাৎপর্য ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উঠে আসে।