অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এই শ্রদ্ধা জানান।
দিবসের প্রথম প্রহরে ঘড়ির কাঁটা ১২টা বাজার সাথে সাথেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তিনি ধীরলয়ে মূল বেদীর দিকে এগিয়ে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষাশহীদদের অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।
রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪ মিনিটে সপরিবারে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ৭ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মাইকে বাজছিল অমর একুশের কালজয়ী গান— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি’। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পৌঁছালে তাদের অভ্যর্থনা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাত ১২টা ১৬ মিনিটে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিন বাহিনীর প্রধান— সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গাজীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 























