ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন্স স্পাইসজেট বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) এয়ারলাইন্সটির ওপর বিশেষ নজরদারি ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মূলত চরম আর্থিক সংকট, পাওনা পরিশোধে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তার মানদণ্ড বজায় রাখতে হিমশিম খাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরেই স্পাইসজেট তীব্র অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং উড়োজাহাজ লিজ দেওয়া সংস্থাগুলোর বিশাল অঙ্কের বকেয়া সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না তারা। সম্প্রতি বকেয়া পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় দুবাইসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে সংস্থাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এই ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনার কারণেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের ওপর বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
ভারতের এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, স্পাইসজেটকে বর্তমানে ‘এনহ্যান্সড সার্ভেইল্যান্স’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটি চাইলেই নতুন কোনো রুটে ফ্লাইট সম্প্রসারণ করতে পারবে না এবং নিয়মিত বিরতিতে তাদের কারিগরি সক্ষমতা ও আর্থিক অবস্থার হালনাগাদ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া, কারিগরি ত্রুটির কারণে বারবার ফ্লাইট বাতিল এবং যাত্রীদের যথাযথ সেবা দিতে না পারার অভিযোগও এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পাইসজেটের এই টালমাটাল অবস্থা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একদিকে যেমন শত শত কর্মীর বেতন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে টিকিট বুকিং দিয়েও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের কারণে সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বর্তমানে নতুন বিনিয়োগকারী সংগ্রহ এবং দেনা পরিশোধের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।
রিপোর্টারের নাম 






















