কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় মাসব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা রশীদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আবু ইউসুফ ও মাওলানা আব্দুল গাফফারসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা।
গণস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন শেষ নবী। তাঁর পরে আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না—এটিই ইসলামের অকাট্য বিধান বা ‘খতমে নবুওয়াত’। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে নবী দাবি করে ইসলামের এই মৌলিক স্তম্ভকে অস্বীকার করেছেন। ফলে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ ও ওলামায়ে কেরাম তাদের ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত বলে মনে করেন। বাংলাদেশেও এই দাবি দীর্ঘদিনের।
মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী তার বক্তব্যে বলেন, খতমে নবুওয়াত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী উল্লেখ করেন, কাদিয়ানীরা নিজেদের ‘মুসলিম’ পরিচয় দিয়ে ইসলামের বিভিন্ন পরিভাষা ও ইবাদত পালন করছে, যা সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হলে ইসলামের মৌলিক পরিচয় সুরক্ষিত হবে।
আলেম সমাজ আরও দাবি করেন, মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে কাদিয়ানীরা হজ্জ পালনসহ মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছে, যা ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক ধরনের প্রতারণা। বক্তারা পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে তাদের অমুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারে, কিন্তু মুসলিম পরিচয়ে ইসলাম বিকৃতির সুযোগ পায় না।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এই অভিযান চালানো হবে। সংগৃহীত স্বাক্ষরসমূহ জনমতের প্রতিফলন হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে বলে তারা জানান। একটি সুস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী ধর্মীয় ও সামাজিক অস্থিরতার অবসান ঘটাতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 























