ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁদাবাজিকে বৈধতার পাঁয়তারা: মন্ত্রীর মন্তব্যে টিআইবির তীব্র নিন্দা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী একটি গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি একইসঙ্গে এ জাতীয় দুর্নীতি-সহায়ক অপচেষ্টা অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেছেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্য তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারপ্রধানের দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবহন খাতের এই ‘ক্যানসার’ চাঁদাবাজিকে সুরক্ষায় মন্ত্রীর এমন মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এর মাধ্যমে মন্ত্রী তার নিজ দলের অঙ্গীকার ও সরকারপ্রধানের অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রী যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের বিদ্যমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করে পক্ষাবলম্বন করেছেন, তা স্পষ্টতই একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা। এর সরাসরি ভুক্তভোগী দেশের পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এই অবৈধতার বোঝা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহন করতে হয়। মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে এখানে বৈধতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এই খাতের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তোলেন, সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি সেবায়ও একই তত্ত্বের প্রয়োগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, নবগঠিত সরকার যদি দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে ফাঁকা বুলি হিসেবে না দেখে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তার দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান স্মরণ করিয়ে দেন, কর্তৃত্ববাদের পতনের পর দেশব্যাপী যে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি ও দখলবাজির মহোৎসব শুরু হয়েছিল, মন্ত্রীর এই অবস্থান তার বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতেও একই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৎকালীন সড়কমন্ত্রী চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল টিআইবি। নবগঠিত সরকারও একই পথে হাঁটছে দেখে সংস্থাটি হতাশ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধ করতে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে এবং এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ বাংলাদেশের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি প্রটোকলের গাড়ি প্রত্যাখ্যান জামায়াত আমিরের, বললেন ‘ক্ষমতার অপব্যবহার চাই না’

চাঁদাবাজিকে বৈধতার পাঁয়তারা: মন্ত্রীর মন্তব্যে টিআইবির তীব্র নিন্দা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় : ০৮:৩০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়কে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী একটি গুরুতর অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি একইসঙ্গে এ জাতীয় দুর্নীতি-সহায়ক অপচেষ্টা অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিজ দলের শুদ্ধিকরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেছেন, মন্ত্রীর এই বক্তব্য তিনিসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষিত দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারপ্রধানের দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবহন খাতের এই ‘ক্যানসার’ চাঁদাবাজিকে সুরক্ষায় মন্ত্রীর এমন মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এর মাধ্যমে মন্ত্রী তার নিজ দলের অঙ্গীকার ও সরকারপ্রধানের অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রী যেভাবে সড়ক ও পরিবহন খাতের বিদ্যমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করে পক্ষাবলম্বন করেছেন, তা স্পষ্টতই একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা। এর সরাসরি ভুক্তভোগী দেশের পরিবহন খাতসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ, যাদের এই অবৈধতার বোঝা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহন করতে হয়। মালিক ও শ্রমিক কল্যাণকে এখানে বৈধতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এই খাতের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্যপূর্ণ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তোলেন, সড়কে চাঁদাবাজিকে সমঝোতার নামে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হলে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পাসপোর্ট, ভূমি, প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি সেবায়ও একই তত্ত্বের প্রয়োগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? তিনি জোর দিয়ে বলেন, নবগঠিত সরকার যদি দুর্নীতি প্রতিরোধে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে ফাঁকা বুলি হিসেবে না দেখে, তাহলে অনতিবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তার দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান স্মরণ করিয়ে দেন, কর্তৃত্ববাদের পতনের পর দেশব্যাপী যে বহুমাত্রিক চাঁদাবাজি, দলবাজি ও দখলবাজির মহোৎসব শুরু হয়েছিল, মন্ত্রীর এই অবস্থান তার বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতেও একই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৎকালীন সড়কমন্ত্রী চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল টিআইবি। নবগঠিত সরকারও একই পথে হাঁটছে দেখে সংস্থাটি হতাশ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশবাসীর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধ করতে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় দেশবাসী হতাশ হবে এবং এমন শক্তি লাভবান হবে যাদের ভাবাদর্শ বাংলাদেশের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, সঠিক প্রাধান্য নির্ধারণের এখনই সময়।’