বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এখন টিভি’র চারজন সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান এবং তাদের কর্মবিরতিতে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’। সংগঠনটি মনে করে, ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সুজন এই প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব মতামত তুলে ধরায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ চারজন সাংবাদিককে শোকজ করেছে। একই সঙ্গে তাদের সাত দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কর্মবিরতিতে পাঠানো হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তা প্রহরীদের মাধ্যমে তাদের ছবি দেখিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
সুজন জানায়, সাংবাদিকদের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে তাদের ফেসবুক পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল ও সাংবাদিকরা সমস্যায় পড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুজন প্রশ্ন তুলেছে, একজন সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের ওপর প্রতিষ্ঠান এভাবে ‘সেন্সরশিপ’ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে কি না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যখন দেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তখন সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি তৈরি করা এবং তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বৈষম্যহীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তোলার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার নামে ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা অযৌক্তিক।
সুজন-এর পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই পদক্ষেপের পেছনের নীতিমালা স্পষ্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত ও যৌক্তিক সমাধান করে ওই চারজন সাংবাদিকের কর্মস্থলে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।
রিপোর্টারের নাম 





















