ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একুশের চেতনায় দেশ, প্রযুক্তির নিরাপত্তায় মাতৃভাষা:

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। লাখো মানুষের outpouring of emotion এবং বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের এই মহৎ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। কয়েক স্তরের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

শহীদ মিনারে ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি সুসংহত, ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং শহীদ মিনারের চারপাশের প্রবেশ পথগুলিতে সাধারণ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তির নিবিড় নজরদারি: সমগ্র এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে শত শত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সতর্ক তল্লাশি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর। কোনো ধরনের ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে মূল বেদিতে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের তৎপরতা: ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি হাজার হাজার সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য জনস্রোতে মিশে থেকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

আকাশে ড্রোন, মাটিতে ডগ স্কোয়াড:

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, তারা গতানুগতিক নিরাপত্তা কৌশলের বাইরেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। র‍্যাবের কমান্ডো টিম এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলে একাধিকবার ‘সুইপিং’ অভিযান সম্পন্ন করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং স্পেশাল ফোর্সকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক রুট ম্যাপ ও চলাচল বিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং চলাচলের জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ অনুযায়ী, শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারের মূল গেটে পৌঁছাতে হবে। বের হওয়ার জন্য দোয়েল চত্বর ও চানখাঁরপুল এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২০শে ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার মধ্যে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

সাইবার মনিটরিং ও দেশব্যাপী নিরাপত্তা:

ডিএমপি এবং র‍্যাব জানিয়েছে, কেবল রাজপথেই নয়, সাইবার জগতেও তাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অমর একুশের চেতনাকে ঘিরে কেউ যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারের পাশে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আসা প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রজ্ঞার প্রমাদ ও সমাজের দায়

একুশের চেতনায় দেশ, প্রযুক্তির নিরাপত্তায় মাতৃভাষা:

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে। লাখো মানুষের outpouring of emotion এবং বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের এই মহৎ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। কয়েক স্তরের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

শহীদ মিনারে ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) একটি সুসংহত, ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং শহীদ মিনারের চারপাশের প্রবেশ পথগুলিতে সাধারণ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তির নিবিড় নজরদারি: সমগ্র এলাকা জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে শত শত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সতর্ক তল্লাশি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর। কোনো ধরনের ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে মূল বেদিতে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের তৎপরতা: ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি হাজার হাজার সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য জনস্রোতে মিশে থেকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

আকাশে ড্রোন, মাটিতে ডগ স্কোয়াড:

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, তারা গতানুগতিক নিরাপত্তা কৌশলের বাইরেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। র‍্যাবের কমান্ডো টিম এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলে একাধিকবার ‘সুইপিং’ অভিযান সম্পন্ন করেছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং স্পেশাল ফোর্সকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক রুট ম্যাপ ও চলাচল বিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং চলাচলের জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট রুট ম্যাপ অনুযায়ী, শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারের মূল গেটে পৌঁছাতে হবে। বের হওয়ার জন্য দোয়েল চত্বর ও চানখাঁরপুল এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ২০শে ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার মধ্যে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

সাইবার মনিটরিং ও দেশব্যাপী নিরাপত্তা:

ডিএমপি এবং র‍্যাব জানিয়েছে, কেবল রাজপথেই নয়, সাইবার জগতেও তাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অমর একুশের চেতনাকে ঘিরে কেউ যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারের পাশে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আসা প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।