ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

হাতিয়ায় গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’: ৫ দিন পর আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৬

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বহুল আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ঘটনার পাঁচ দিন পর আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবদুর রহমান (৩২), মো. মতিন (৩৫), হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), মো. রুবেল (৩০), এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাদীর বসতঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রধান আসামি আবদুর রহমান ওই নারীকে গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। পরদিন ভোরে তারা আবারও ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক জানান, আদালত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। হাতিয়া থানাকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর দ্রুত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে ইতোমধ্যে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মস্থলে মর্মান্তিক পরিণতি: আনোয়ারায় মাচা ধসে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত

হাতিয়ায় গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’: ৫ দিন পর আদালতে মামলা, অভিযুক্ত ৬

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বহুল আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ঘটনার পাঁচ দিন পর আদালত মামলা গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবদুর রহমান (৩২), মো. মতিন (৩৫), হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), মো. রুবেল (৩০), এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং বেলাল মাঝি (৪৮)।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাদীর বসতঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রধান আসামি আবদুর রহমান ওই নারীকে গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। পরদিন ভোরে তারা আবারও ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক জানান, আদালত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন। হাতিয়া থানাকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশের পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর দ্রুত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে ইতোমধ্যে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।