ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

কিশোর গ্যাং নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ: এমপি’র আহ্বান, শেল্টারদাতাদেরও ছাড় নয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

এমপি মাজেদ তাঁর পোস্টে কিশোর অপরাধীদের নাম, বাবার নাম এবং ছবিসহ একটি তালিকা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রথমে তাদের ভালো পথে আসার জন্য অনুরোধ করব। যদি তারা না শোনে, তবে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।” তিনি আরও কঠোরভাবে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি এদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেন, তবে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংসদ সদস্য তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, “আমাদের সবাইকে মিলেমিশে এই কিশোর গ্যাংগুলোকে এলাকাছাড়া করতে হবে। কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি মেয়ে নিরাপদে স্কুলে যাবে, কেউ ভয় পাবে না। আসুন, আমরা সবাই সাহসী হই, আমরা অবশ্যই পারব।”

এমপি’র এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাখুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক হাশিম উদ্দিন মন্তব্য করেন যে, সম্প্রতি সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে এবং তাদের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছে। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্কুল চলাকালীন সময়ে পুলিশি টহল বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

রাসেল পাঠান নামে এক ব্যক্তি তাঁর মন্তব্যে দাবি করেন যে, উচাখিলা বাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাদের কারণে সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কারবারের মতো নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। তিনি অবিলম্বে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার বিকেলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি এবং বাজার তদারকি (মনিটরিং) টিম গঠনের আহ্বান জানিয়েও পৃথক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তিনি সেই সময় বলেছিলেন যে, দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে, যেন কোনো সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মস্থলে মর্মান্তিক পরিণতি: আনোয়ারায় মাচা ধসে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত

কিশোর গ্যাং নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ: এমপি’র আহ্বান, শেল্টারদাতাদেরও ছাড় নয়

আপডেট সময় : ১০:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

এমপি মাজেদ তাঁর পোস্টে কিশোর অপরাধীদের নাম, বাবার নাম এবং ছবিসহ একটি তালিকা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রথমে তাদের ভালো পথে আসার জন্য অনুরোধ করব। যদি তারা না শোনে, তবে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।” তিনি আরও কঠোরভাবে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি এদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেন, তবে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংসদ সদস্য তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, “আমাদের সবাইকে মিলেমিশে এই কিশোর গ্যাংগুলোকে এলাকাছাড়া করতে হবে। কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি মেয়ে নিরাপদে স্কুলে যাবে, কেউ ভয় পাবে না। আসুন, আমরা সবাই সাহসী হই, আমরা অবশ্যই পারব।”

এমপি’র এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাখুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক হাশিম উদ্দিন মন্তব্য করেন যে, সম্প্রতি সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, স্কুলগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে এবং তাদের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছে। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্কুল চলাকালীন সময়ে পুলিশি টহল বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

রাসেল পাঠান নামে এক ব্যক্তি তাঁর মন্তব্যে দাবি করেন যে, উচাখিলা বাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাদের কারণে সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, চুরি, ছিনতাই এবং মাদক কারবারের মতো নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। তিনি অবিলম্বে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার বিকেলে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি এবং বাজার তদারকি (মনিটরিং) টিম গঠনের আহ্বান জানিয়েও পৃথক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। তিনি সেই সময় বলেছিলেন যে, দল-মত নির্বিশেষে সকল স্তরের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে, যেন কোনো সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে।