ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দ্বিতীয় দিনেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল খননের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান সরকারের এই তৎপরতা এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
সরকারের অন্যতম বড় চমক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প নিয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কার্ডগুলো ইস্যু করা হবে মূলত পরিবারের নারী প্রধানদের নামে। কমিটির কাজ হবে এই প্রকল্পের একটি টেকসই ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছ পদ্ধতি তৈরি করা। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের তালিকা নির্ভুল করতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেজের সমন্বয় করে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড বিতরণ শুরু করা যায়। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বা সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য—নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিশ্চিত করা।
একই দিনে পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দুপুরে অনুষ্ঠিত অন্য এক সভায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং দেশব্যাপী নদী-খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রতি বছর গড়ে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, উপকূলীয় বাঁধ, রাস্তার ধার এবং পার্বত্য অঞ্চলে এই বনায়ন কার্যক্রম চালানো হবে। আগামী মে মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এই কর্মতৎপরতার ঢেউ লেগেছে অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার এখন বদ্ধপরিকর।
নতুন সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম মনে করেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই জনকল্যাণমূলক কাজে হাত দেওয়া সরকারের আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বাস্তবমুখী উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে যে, বিএনপি কেবল ভোটের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়নি, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 























