কুমিল্লার হোমনায় মা, ছেলে ও ভাতিজাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার হোমনা থানায় মামলাটি করেন শোকাহত প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যে কোনো এক সময় উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে জয়নুদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন—জহিরুল ইসলামের স্ত্রী সুকিয়া বেগম (৪০), তার চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং পাঁচ বছরের ভাতিজা মোহাম্মদ জোবায়ের।
ঘটনার দিন সকালে বাড়ির সদস্যরা ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তারা দরজা খোলেন। এসময় তিনটি পৃথক কক্ষে তিনজনের রক্তাক্ত গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। গত বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মনিপুর শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
প্রিয়তমা স্ত্রী ও দুই অবুঝ শিশুকে হারিয়ে দিশেহারা জহিরুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ‘ক্লু’ পাওয়া যায়নি।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম এই মামলার রহস্য ভেদে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
রিপোর্টারের নাম 





















