পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে যেন আগুন লেগেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোনো কোনো পণ্যের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজশাহীর বৃহৎ কাঁচাবাজার মনি চত্বরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মুখে হতাশার ছাপ। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম শুনে থমকে যাচ্ছেন। কেউ অল্প কিছু পণ্য কিনে ব্যাগ ভর্তি না করেই বাড়ি ফিরছেন, আবার কেউ শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী কিনেই সন্তুষ্ট থাকছেন। গত বছরের রমজানের তুলনায় এবার পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একদিনের ব্যবধানে সাগর কলার দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। সবরি কলার দামও ২০ টাকা বেড়েছে। বেগুন ও করলার মতো সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শসার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও ১০ টাকা করে বেড়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে মসলার বাজারেও। আদার দাম কেজিতে ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। লেবুর দাম প্রতি হালি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা, বুট এবং খেসারি ডাল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারও স্বস্তিতে নেই। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে, যা ৪০ টাকা বেশি। সোনালী মুরগির দাম ৩০ টাকা বেড়ে ২৯০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ১০০ টাকা বেড়ে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে। মরিয়ম খেজুর ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা, মিরজুল খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ১৪০০ টাকা এবং দাবাস খেজুর ১২০ টাকা বেড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জীর্ণ পোশাকে খালি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্রেতা বলেন, “আমার বলার মতো কোনো ভাষা নেই। আমাদের মতো গরিব মানুষের কী যে অবস্থা! আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে কীভাবে চলছি তা আমরাই জানি।”
আরেকজন নারী ক্রেতা বলেন, “আজ বাজারের দাম গতকালের চেয়ে অনেক বেশি দেখছি। শসা, লেবুর দাম চড়া। প্রায় সবকিছুর দামই বেড়েছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ খাবে কী?”
সেলিম নামের একজন ক্রেতা জানান, “রোজার শুরুতে সবকিছুর দাম একটু বেশিই নেয়। সাধারণ মানুষের জন্য এটা কষ্টকর। তবে আশা করছি, ধীরে ধীরে দাম কমে আসবে।”
এ বিষয়ে এক পাইকারি বিক্রেতা আনোয়ার বলেন, “আমরা বেশি দামে কিনে এনেছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের লাভ খুব বেশি হচ্ছে না।”
রিপোর্টারের নাম 





















