ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই কোটিপতি, সুজনের তথ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশই কোটিপতি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই তথ্য উপস্থাপন করে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নবনির্বাচিতদের মধ্যে ২৭১ জন সংসদ সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি।

সুজনের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিপুল সংখ্যক কোটিপতির মধ্যে ১৮৭ জন সংসদ সদস্যের সম্পদ পাঁচ কোটি টাকারও অধিক, যা মোট বিজয়ীর প্রায় ৬৩ শতাংশ। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদ রয়েছে এমন সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র ২ জন। এছাড়া, হলফনামায় সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি এমন ৩ জনসহ মোট ৫ জন সংসদ সদস্যের সম্পদ ২৫ লাখ টাকার নিচে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও কোটিপতির হার বেশি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০৯ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন বিজয়ীর মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশের সম্পদ এক কোটি টাকার বেশি।

সুজনের বিশ্লেষণ আরও দেখায় যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের তুলনায় নির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে ৫৫.৬৩ শতাংশ কোটিপতি ছিলেন, যা এবারের নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৯১.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদ থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচিত হওয়ার হার কমেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোটিপতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সুজন উল্লেখ করেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৮৯.৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯১.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পক্ষান্তরে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিকের হার ছিল ৩.০১ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

সুজনের মতে, এই তথ্যাবলী থেকে স্পষ্ট হয় যে, নির্বাচনে স্বল্প সম্পদের অধিকারীদের অংশগ্রহণ কমছে এবং অধিক সম্পদের মালিকদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নামে আন্তঃনগর, মানে লোকাল: উত্তরের রেলপথে অন্তহীন ভোগান্তি

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই কোটিপতি, সুজনের তথ্য

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশই কোটিপতি বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই তথ্য উপস্থাপন করে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নবনির্বাচিতদের মধ্যে ২৭১ জন সংসদ সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি।

সুজনের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিপুল সংখ্যক কোটিপতির মধ্যে ১৮৭ জন সংসদ সদস্যের সম্পদ পাঁচ কোটি টাকারও অধিক, যা মোট বিজয়ীর প্রায় ৬৩ শতাংশ। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদ রয়েছে এমন সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র ২ জন। এছাড়া, হলফনামায় সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি এমন ৩ জনসহ মোট ৫ জন সংসদ সদস্যের সম্পদ ২৫ লাখ টাকার নিচে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও কোটিপতির হার বেশি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০৯ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন বিজয়ীর মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশের সম্পদ এক কোটি টাকার বেশি।

সুজনের বিশ্লেষণ আরও দেখায় যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের তুলনায় নির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে ৫৫.৬৩ শতাংশ কোটিপতি ছিলেন, যা এবারের নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৯১.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২৫ লাখ টাকার কম সম্পদ থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচিত হওয়ার হার কমেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে কোটিপতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সুজন উল্লেখ করেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৮৯.৯৭ শতাংশ, যা বর্তমানে ৯১.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পক্ষান্তরে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্বল্প সম্পদের মালিকের হার ছিল ৩.০১ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

সুজনের মতে, এই তথ্যাবলী থেকে স্পষ্ট হয় যে, নির্বাচনে স্বল্প সম্পদের অধিকারীদের অংশগ্রহণ কমছে এবং অধিক সম্পদের মালিকদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।