সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো আলোচিত পদে থাকা এই ব্যক্তিত্বের নতুন মন্ত্রিত্ব নিয়ে কেবল বিরোধী দলই নয়, খোদ বিএনপির ভেতরেও বিস্ময় ও নানা প্রশ্ন উঠেছে। দলটির অনেক নেতা-কর্মীই এই নিয়োগে নিজেদের অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মহলে এই নিয়োগ ঘিরে চলছে গভীর আলোচনা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আঠারো মাস ধরে খলিলুর রহমানের ভূমিকা বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমনকি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারাও বিভিন্ন ইস্যুতে তার সমালোচনা করেছেন এবং তাকে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপির একাধিক নেতা। দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি এমন অভিযোগও উঠেছিল।
এই সকল আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকারে খলিলুর রহমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়াকে মন্ত্রিসভার একটি বড় ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি কেন তাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করলো? খলিলুর রহমান নিজেও এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে তিনি “জোর করে” মন্ত্রিসভায় আসেননি।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিস্ময়:
বাংলাদেশে দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় দেশবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। সরকারের মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, তা নিয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে বিএনপির তরুণ-প্রবীণ এবং মিত্র দলগুলোর নেতাদের নামই বেশি ছিল। তবে, সরকার গঠনের ঠিক আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই অবাক হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা তার মন্ত্রিসভায় কাকে নেবেন, তা সম্পূর্ণভাবে তার এখতিয়ার। তিনি দলের কারো সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন, আবার নাও করতে পারেন। সাধারণত মন্ত্রিসভা গঠনের আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম গোপন রাখা হয়। তবে, খলিলুর রহমানের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি শেষ মুহূর্তে আলোচনায় আসায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীই হতবাক হয়েছেন।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, খলিলুর রহমান তাদের সরকারের মন্ত্রী হবেন, এমনটা তাদের ধারণার বাইরে ছিল। সরকার গঠনের ঠিক আগ মুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে তারা বিস্মিত হন। তারা আরও বলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে খলিলুর রহমানের বিভিন্ন ভূমিকার সমালোচনা তারা আগেও করেছেন এবং তার পদত্যাগও চেয়েছিলেন। তাই, এখন তাদের সরকারেই তার মন্ত্রী হওয়াটা তাদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
‘জোর করে যাইনি’ – খলিলুর রহমানের বক্তব্য:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. খলিলুর রহমান। এসময় তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব থেকে নির্বাচিত দলের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে কিনা, এই প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো জোর করে যাইনি। একেকজনের একেকজন সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকতে পারে, সেটা পরিবর্তনও হয়।”
নির্বাচনে ‘রেফারির’ ভূমিকা পালনকারী একজন ব্যক্তি বিজয়ী দলের সাথে মন্ত্রী হয়েছেন, এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছে। তার মানে গণনা ঠিক হয়নি, তাই তো। এটা বলছে তো! গুণে নিন আরেকবার। গুনতে তো মুশকিল নাই।”
বিএনপি চেয়েছিল পদত্যাগ:
খলিলুর রহমানকে প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেই পদে থাকাকালীন তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি সমালোচনা করেছিল। পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো স্পর্শকাতর পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল বিএনপি। সে সময় তার নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। একজন শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেছিলেন যে, খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং অন্য দেশের নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে দেশকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে।
গত বছর, রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে বাংলাদেশের কক্সবাজারের সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে ‘মানবিক’ করিডর দেওয়ার প্রস্তাবও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে দেওয়ার প্রশ্নেও সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, গত বছর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বক্তব্যে নতুন বিতর্ক জন্ম নিয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে অব্যাহতি দিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসর কয়েকজন উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তারা আগেও উত্থাপন করেছিলেন।
সর্বশেষ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেছিলেন বিএনপি নেতারা। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে হওয়া এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থে হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছিলেন এবং এই অভিযোগের আঙুল ছিল খলিলুর রহমানের দিকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন ধরে যে ব্যক্তির সম্পর্কে বিএনপির নেতাদের একটি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তিনিই এখন দলটির সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়ে বিশ্ব দেখবে বিএনপি সরকারকে, তাই এই নিয়োগে মানুষের বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী?
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। বিএনপির নেতারাও এই অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে খলিলুর রহমান সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বলেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছাড়া তার অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় এই প্রশ্নটি আলোচনায় আসছে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের আগে তাদের সম্পদের যে হিসাব প্রকাশ করা হয়, তাতে খলিলুর রহমানের বেশিরভাগ সম্পদ বিদেশে বলে দেখা যায়। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে যে, নাগরিকত্ব না নিয়ে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড নিয়েছেন এবং এর মাধ্যমেই সেখানে দীর্ঘকাল বসবাস করছেন। গ্রিন কার্ডধারীরা সাধারণত পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠেন।
কেন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন?
বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিক আলাপে জানিয়েছেন যে, কূটনীতিতে খলিলুর রহমানের পেশাদারিত্ব রয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং প্রতিবেশী ভারতের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলার জন্য একজন পেশাদার ও দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রয়োজন, যা তাকে সরকারে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় এসেছে বলে তারা মনে করেন।
খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সাবেক কূটনীতিক বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল, তখন বিএনপিও নির্বাচনের দিনক্ষণ চেয়ে আন্দোলনThe threat of movement was giving. সেই পরিস্থিতিতে, গত বছরের জুন মাসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখান থেকে নির্বাচনের ঘোষণা আসে। সেই বৈঠকে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, সেই লন্ডন বৈঠকের সময়ই খলিলুর রহমান বিএনপির সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেন এবং তখন থেকেই তারেক রহমানের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তারা আরও বলেন যে, ২০০১ সালে নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান খলিলুর রহমানকে তার একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, সে সময়ই বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেই নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি বিএনপির পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন, এমন একটি ধারণা তিনি দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তৈরি করতে পেরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিও একটি প্রেক্ষাপট:
বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় ছাড়াও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও সামনে এনেছেন সাবেক একজন কূটনীতিক। তিনি বলেন, নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি এবং এর শর্তাবলী নিয়ে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিএনপি নেতাদের সমালোচনা একটি বিরোধী জনমত তৈরি করেছে। এমতাবস্থায়, চুক্তিটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা বা বহাল রাখার বিষয় রয়েছে। এই চুক্তি হওয়ার পেছনে খলিলুর রহমানের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে। তাই, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থেকে রহমানকে নির্বাচিত সরকারে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ থাকতে পারে, যা বিএনপি নেতৃত্ব বিবেচনায় নিয়েছে বলে ধারণা করছেন সাবেক ওই কূটনীতিক। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে চীনকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন শর্ত আনা হয়েছে, যা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরাও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো অনেক ক্ষেত্রে কঠোর এবং এতে দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, বরং চুক্তিটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে সীমিত করে দিতে পারে।
খলিলুর রহমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই থাকতে পারে, এমন সন্দেহ প্রকাশ করছেন সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা রাখা হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করা সহজ হবে না। এছাড়া, বিএনপি যে কোনো একটি দেশ কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে, এই কথার সঙ্গে বাস্তবতার ভিন্নতা দেখা যেতে পারে। তখন সম্পর্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে রেখে এক দেশ কেন্দ্রিক হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ।
তবে, সাবেক আরেকজন কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, প্রধানত বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই দলটির সরকারে জায়গা পেয়েছেন খলিলুর রহমান। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও একটি কারণ হতে পারে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যাত্রার প্রথম দিনে খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন যে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী তারা এগোবেন এবং সেখানে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করবেন। তবে, এই বক্তব্যের বাস্তবায়ন প্রশ্নে কূটনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























