ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়কে টাকা আদায়: সমঝোতা না চাপ, নতুন ব্যাখ্যায় মন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে আদায় করা অর্থ প্রসঙ্গে এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে আদায় করা অর্থকে তিনি ‘চাঁদা’ হিসেবে দেখতে রাজি নন। তবে, যদি কোনো পরিবহন মালিক বা চালককে জোরপূর্বক টাকা দিতে বাধ্য করা হয়, তবে সেটিই হবে প্রকৃত চাঁদা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে প্রচলিত অর্থ আদায় পদ্ধতিকে তিনি ‘চাঁদা’ হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি তাদের সদস্যদের কল্যাণেই এই অর্থ ব্যবহার করে থাকে। এটিকে তিনি এক প্রকার ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যে অর্থ আদায় করতে কেউ অনিচ্ছুক বা কাউকে বাধ্য করা হয়, সেটাই তার দৃষ্টিতে চাঁদা। মালিক সমিতিগুলো একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ সংগ্রহ করে মালিকদের কল্যাণে ব্যয় করে। যদিও এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে তিনি মনে করেন এটি সমঝোতার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়।

মন্ত্রী রবিউল আলম আরো বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তারা সমঝোতার ভিত্তিতেই এই কাজ করে থাকে। তবে, কোন দলের প্রভাব বেশি, তার ওপর নির্ভর করে আদায়ের পরিমাণে তারতম্য দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক সংগঠনের আধিপত্যও এক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। তবে, এই প্রক্রিয়াকে তিনি চাঁদা হিসেবে দেখতে নারাজ, কারণ এতে সমঝোতার বিষয়টি জড়িত।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্থানগুলোতে বাইরের কোনো পক্ষের চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় বা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, যদি মালিকরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এই অর্থ আদায় করে থাকে, তবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তারা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যে কেউ যেন এই প্রক্রিয়ায় বঞ্চনার শিকার না হন এবং সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার না হয়।

অন্যদিকে, মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানজট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কের ওপর অপরিকল্পিত বাজার বসাই যানজটের অন্যতম কারণ। এগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ছুটির মেয়াদ কম হলে বাড়ি ফেরা মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। গতবার ছুটির মেয়াদ বেশি থাকায় কিছুটা সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল। এবারও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোগান্তি কমাতে নতুন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভোট দেব আমরা, পদ পাবে অন্যরা—এই বৈষম্য চলতে পারে না’: পাহাড়ে সম-অধিকারের দাবি

সড়কে টাকা আদায়: সমঝোতা না চাপ, নতুন ব্যাখ্যায় মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে আদায় করা অর্থ প্রসঙ্গে এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে আদায় করা অর্থকে তিনি ‘চাঁদা’ হিসেবে দেখতে রাজি নন। তবে, যদি কোনো পরিবহন মালিক বা চালককে জোরপূর্বক টাকা দিতে বাধ্য করা হয়, তবে সেটিই হবে প্রকৃত চাঁদা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে প্রচলিত অর্থ আদায় পদ্ধতিকে তিনি ‘চাঁদা’ হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি তাদের সদস্যদের কল্যাণেই এই অর্থ ব্যবহার করে থাকে। এটিকে তিনি এক প্রকার ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যে অর্থ আদায় করতে কেউ অনিচ্ছুক বা কাউকে বাধ্য করা হয়, সেটাই তার দৃষ্টিতে চাঁদা। মালিক সমিতিগুলো একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ সংগ্রহ করে মালিকদের কল্যাণে ব্যয় করে। যদিও এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে তিনি মনে করেন এটি সমঝোতার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়।

মন্ত্রী রবিউল আলম আরো বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। তারা সমঝোতার ভিত্তিতেই এই কাজ করে থাকে। তবে, কোন দলের প্রভাব বেশি, তার ওপর নির্ভর করে আদায়ের পরিমাণে তারতম্য দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক সংগঠনের আধিপত্যও এক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। তবে, এই প্রক্রিয়াকে তিনি চাঁদা হিসেবে দেখতে নারাজ, কারণ এতে সমঝোতার বিষয়টি জড়িত।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্থানগুলোতে বাইরের কোনো পক্ষের চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় বা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, যদি মালিকরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এই অর্থ আদায় করে থাকে, তবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তারা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যে কেউ যেন এই প্রক্রিয়ায় বঞ্চনার শিকার না হন এবং সংগৃহীত অর্থের অপব্যবহার না হয়।

অন্যদিকে, মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানজট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কের ওপর অপরিকল্পিত বাজার বসাই যানজটের অন্যতম কারণ। এগুলোকে শৃঙ্খলার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ছুটির মেয়াদ কম হলে বাড়ি ফেরা মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। গতবার ছুটির মেয়াদ বেশি থাকায় কিছুটা সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল। এবারও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোগান্তি কমাতে নতুন কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।